ডাইনোসরদের বিলুপ্তির ১১ কারণ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual1 Ad Code

ফিচার: জীবজগতের হাজার হাজার প্রজাতির প্রতি মানুষের কৌতূহলের সীমা নেই। কেমন করে বেঁচে থাকে এসব প্রাণি, তাদের জীবনযাপন কিংবা জীববৈচিত্র্য রায় তাদের ভূমিকা ইত্যাদি বিচারে মানুষের কৌতূহলের ধরন থাকে ভিন্ন।
জীবিত প্রাণিগুলোকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ এবং শিক্ষার পাশাপাশি বিলুপ্ত প্রাণি সম্পর্কে জানার চেষ্টাও আছে মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান-শিক্ষার্থীদের। সেরকম একটি প্রাণি হলো ডাইনোসর। পৃথিবীতে মানুষের জন্মের বহুকাল আগে বিলুপ্ত এই অতিকায় প্রাণিদের সম্পর্কে বলা যায় মানুষের আগ্রহ এখনো তুমুল।
১. খাদ্য হিসেবে ডাইনোসরের বিলুপ্তি
একসময় সব মাংসাশি ডাইনোসর সব উদ্ভিদভোজী ডাইনোসরদের খেয়ে ফেলে। পরে খাদ্যের অভাবে মাংসাশি ডাইনোসরদেরও বিলুপ্তি হয়।

২. উল্কাপাত
একসময় মার্কিন বিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের আরিজোনায় ফাগস্টাকে একটি বিশাল গর্ত আবিষ্কার করেন এবং যেখানে উল্কাখন্ডের সন্ধান পান। ধারণা করা হয় এই উল্কাখন্ড পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার ফলে সমগ্র পৃথিবী ধূলা এবং জলীয় মেঘে ঢেকে গিয়েছিল। এর ফলে সূর্যকিরণ পৃথিবীতে পৌঁছাত না। এতে অনেক সবুজ উদ্ভিদের বিলুপ্তি ঘটে। আর খাদ্যের অভঅবে উদ্ভিদভোজী ডাইনোসরগুলোরও মৃত্যু হয়।

Manual3 Ad Code

৩. তাপমাত্রার পরিবর্তন
জীবজগতে সরীসৃপ প্রাণিদের তাপমাত্রার সাথে অভিযোজন করার মতা সবচেয়ে কম, যার প্রভাব পড়েছিল ডাইনোসরদের ওপরেও। মহাদেশগুলোতে বিচিত্র তাপমাত্রাগত পার্থক্যের কারণে ডাইনোসরগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ছোট প্রজাতির সরীসৃপরা পাহাড়-পর্বতের গুহায় আশ্রয় নিতে পারলেও বিশালদেহী ডাইনোসরগুলো ছিল অসহায়।

Manual3 Ad Code

৪. খাদ্যভাব
মহাদেশগুলো যখন বিচ্ছিন্ন হচ্ছিল, তখন তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাতের আধিক্য বা অনাবৃষ্টি, তুষারপাত ইত্যাদির বিচারে পরিবেশ পাল্টে যাচ্ছিল। ফলে প্রাণিজগতের বিভিন্ন প্রজাতি যেমন লোপ পাচ্ছিল, তেমনি বহু প্রজাতির উদ্ভিদও বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে উদ্ভিদভোজী প্রাণিদের খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছিল প্রবলভাবে। বিশেষ করে উদ্ভিদভোজী ডাইনোসরগুলো এর শিকার হয়েছিল প্রথম। তাপমাত্রাগত পরিবর্তনে এরা কাহিল হয়ে পড়েছিল, সেই সাথে পর্যাপ্ত খাদ্য না পাওয়ার কারণে এদের বিলুপ্তি ঘটেছিল। অন্যদিকে মাংসাশি ডাইনোসরগুলো তাপমাত্রা এবং খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদভোজী প্রাণির অভাবে মারা গিয়েছিল একটু বিলম্বে।

Manual8 Ad Code

৫. রোগব্যাধি
সনাতন পরিবেশ যখন সুস্থ-সবল ডাইনোসরগুলো বিচরণ করত তখন তাদের ওপর ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসগুলো হয়তো ততটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। বহু কারণে ধীরে ধীরে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসদের আক্রমণ করার মতাও বৃদ্ধি পেয়েছিল। সব মিলিয়ে ডাইনোসরগুলো রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছিল দ্রুত। এভাবে তাদের বিলুপ্তি ঘটছিল।

Manual7 Ad Code

৬। প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস
সাধারণত দেখা যায় দীর্ঘকাল অনুকূল পরিবেশ না পেলে কোনও কোনও প্রজাতির যৌনস্পৃহা বা প্রজননক্ষমতা হ্রায় পায়। ডাইনোসরের কোনও কোনও প্রজাতি এই কারণেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

৭. বিবর্তন
প্রতিকূল পরিবশেকে জয় করে যেসব ডাইনোসর টিকে যেতে সক্ষম হয়েছিল, ধারণা করা যায় দেহগত বিবর্তনের ধারায় তারা অন্যজাতীয় প্রাণিতে পরিণত হয়ে গিয়েছিল।

৮. বিষাক্ত গাছ
একসময় বিষাক্ত গাছে পৃথিবী ছেয়ে গিয়েছিল। উদ্ভিদভোজী ডাইনোসরগুলো এসব গাছ খেয়ে মৃত্যুবরণ করার পর, মাংসাশি ডাইনোসরগুলোও খাদ্যভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
বিষাক্ত গাছ ধারণায় বিরুদ্ধে যুক্তি : এই যুক্তিটি গ্রহণযোগ্য নয়, এই জন্য যে, পৃথিবীর সব গাছ বিষাক্ত হয়ে গিয়েছিল এমন হওয়াটা স্বাভাবিক নয়।

৯. স্থূল শরীর
উদ্ভিদভোজীরা অত্যধিক খাবার খেয়ে খেয়ে এত মোটা হয়ে গিয়েছিল যে এরা এক সময় চলাফেরা করতে অম হয়ে মাংসাশি ডাইনোসরদের সহজ শিকারে পরিণত হয়েছিল।

১০. তুষার যুগের আবির্ভাব
পৃথিবীতে অকস্মাৎ তুষার যুগের আবির্ভাব ঘটায় সব ডাইনোসর ঠান্ডায় জমে মৃত্যুবরণ করে।

১১. ক্রম অগ্ন্যুৎপাত
পৃথিবীজুড়ে আগ্নেয়গিরিগুলো ধারাবাহিকভাবে অবিরত বিষাক্ত গ্যাস ও লাভা নিপে করতে থাকে। ফলে ডাইনোসরগুলোর বিলুপ্তি হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code