ডাকাতি করেও ফিরে আসা যায়

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual4 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: নিউজ ডেস্ক: আয়াত শুনে আলী ইবনে আসাদির চোখ ভিজে গেল। তিনি আল্লাহ তাআলার দয়া অনুধাবন করতে পারলেন। আলী ইবনে আসাদি (রহ.) মনে মনে তওবা করলেন, আর কখনো ডাকাতি করবেন না।

Manual6 Ad Code

সকাল হতেই তিনি মসজিদে নববির দিকে রওনা হলেন। মসজিদে তখন বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) উপস্থিত ছিলেন। আলী ইবনে আসাদি (রহ.) তাঁকে দেখে জড়িয়ে ধরলেন এবং কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি আবু হুরায়রা (রা.)-এর কাছে সবকিছু খুলে বললেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর দয়া হলো।

মসজিদে এমন অনেকেই উপস্থিত ছিলেন, যাঁরা এত দিন তাঁকে ধরার চেষ্টা করছিলেন। সবাইকে এগিয়ে আসতে দেখে আলী ইবনে আসাদি চিৎকার দিয়ে বললেন, তোমরা আমাকে ছুঁতে পারবে না। কারণ, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘কিন্তু যারা গ্রেপ্তারের আগে তওবা করে, তবে জেনে রেখো, আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৩৪)

Manual1 Ad Code

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) এবার মুখ খুললেন, ‘আলী ইবনে আসাদি সঠিক কথাই বলেছে। তাকে এখন শাস্তি দেওয়ার নিয়ম নেই।’

Manual5 Ad Code

এরপর হজরত আবু হুরায়রা (রা.) আলী ইবনে আসাদি (রহ.)-কে নিয়ে মদিনার গভর্নরের কাছে গেলেন। তখন হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসনকাল। আবু হুরায়রা (রা.) গভর্নরকে বললেন, ‘সে একসময় ডাকাতি করত, তবে এখন আল্লাহর পথে আছে। তাকে শাস্তি দেওয়ার কোনো বিধান নেই, যদি না সে আগের অবস্থায় ফিরে যায়।’

Manual7 Ad Code

এ ঘটনা থেকে ইসলামি যুগের শাসনব্যবস্থার চিত্র ফুটে ওঠে। শরিয়াহভিত্তিক শাসনব্যবস্থা কতই না সুন্দর ছিল, তা এ ঘটনা থেকে প্রমাণ হয়। অপরাধীরাও সেই সমাজে নিজেকে শুধরে নিয়ে পরিপূর্ণভাবে জীবন যাপন করতে পারতেন। বর্তমান উন্নত শাসনব্যবস্থায়ও এ ধরনের চিত্র বিরল।

গল্পের আরেকটি শিক্ষা হলো—কেউ যত বড় পাপই করুক না কেন, সে যদি সত্যিকার অর্থে ফিরে আসে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এই ক্ষমা ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যতক্ষণ না মৃত্যু উপস্থিত হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code