

ফিচার: এক সময় এ শীর্ষ ডাকাতের হাত ধরেই এ গ্রামের কয়েকশ’ লোক জড়িয়ে পড়েছিলেন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপকর্মে।
সেই ডাকাত আকবার আলীই আজকের হাজি আকবার আলী। বর্তমানে তিনি কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ট্যাংগার মাঠ গ্রাম আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। সেই সঙ্গে তিনি গ্রামের জামে মসজিদের মোয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করছেন।
চোর-ডাকাতের সেই ট্যাংগার মাঠ এখন প্রবাসীদের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি। গ্রামে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। নিজেদের পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি দেশের রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখছেন তারা। অপরাধীর গ্রাম হিসেবে পরিচিত সেই ট্যাংগার মাঠের নামটিও পরিবর্তন করে এখন হয়েছে শিশিরপাড়া।
মানুষকে কেউ এখন আর চোর, ডাকাত বা অপরাধী বলে গালি দেয় না। এ গ্রামের ঘরে ঘরে এখন সুখ ও শান্তির সুবাতাস। ছোটরা এখন চুরিবিদ্যা নয়, সবাই শিখছে লেখাপড়া। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়েও লেখাপড়া করছেন ট্যাংগার মাঠ গ্রামের ছেলে-মেয়েরা।
কৃষক হজরত আলী, জাহিদুল ইসলাম ও রেবেকা খাতুন জানালেন, এক সময়কার আলোচিত ট্যাংগার মাঠ গ্রামের মানুষ অপরাধ জগৎ থেকে বেরিয়ে এসেছেন। কেউ এখন ওদের নামের শেষে চোর কিংবা ডাকাত বলে না। এলাকায় বা আশে-পাশের গ্রামে ডাকাতি কিংবা চুরি হলে কেউ এখন আর খোঁজ করতে ট্যাংগার মাঠে আসে না। মানুষ সবাই এখন কর্মব্যস্ত। কেউ ব্যবসায়ী কিংবা কেউ দিনমজুর। এ গ্রামের প্রায় এক হাজার লোক সৌদি আরব, ওমান, বাহারাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপম বিভিন্ন দেশে আছেন।
তারা প্রতিমাসেই মোটা অংকের টাকাপাঠাচ্ছেন পরিবারের জন্য। প্রতিটি পরিবারেই এখন স্বচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছে। প্রায় প্রতিটি পরিবারের সদস্যই এখন প্রবাসী। এক সময়ের চোরের গ্রাম এখন প্রবাসীদের গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।