ডিমের দাম কমেছে কিছুটা, মাছ চড়া আগের মতোই

লেখক:
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগে ডিম নিয়ে বাজার তোলপাড়ের মধ্যে এখন দাম কিছুটা কমে এলেও সপ্তাহের বাজার করতে গিয়ে মাছ ও মসলার চড়া দাম যেন পকেট কাটছে ক্রেতার।

সপ্তাহের ব্যবধানে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম আগের মতো থাকলেও মসলাপাতির দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে ইলিশ বাদে অন্য সব মাছের দামে ঊর্ধ্বগতি থামছে না।

অপরদিকে ডিমের পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দাম আগের তুলনায় স্বল্প পরিমাণে কমে এলেও তা এখনও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তিকর পর্যায়ে নামেনি।

শুক্রবার ঢাকার অন্যতম কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজারে প্রতি ডজন ডিম তিন দিন আগের চেয়ে ১৫-২০ টাকা করে কমে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ফার্মের লাল ডিম ডজনপ্রতি ১৪৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিম বিক্রেতা মুহিম বললেন, তিন দিন আগে লাল ডিমের দাম ছিল ১৬৫ টাকা এবং সাদাগুলো ১৬০ টাকা।

Manual8 Ad Code

দুপুরের দিকে এ বাজারের কিচেন মার্কেটে কথা হয় পাশের দিলু রোড থেকে ভাইয়ের সঙ্গে বাজার করতে আসা নাঈমের সঙ্গে। চাল, ডাল, চিনি, মাছ, ডিমের মতো নিত্যপণ্য কেনা শেষে তারা এসেছেন সবজির দোকানে।

Manual6 Ad Code

নাঈম বলছিলেন, “পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু তবুও কারওয়ান বাজার এলেই খালি কিনতে ইচ্ছে করে, সব হাতের কাছে পাওয়া যায় তো।

“মাছ-টাছ সব কেনা শেষ। মাসের বাজার একবারে করে নিলাম আমরা। ইনকামের তুলনায় দাম তো সবকিছুরই বেশি ঢাকায়। কিন্তু সবচেয়ে বেশি দাম মাছের, এটা এফর্ডেবল লাগে নাই।”

মাছের বাজারে ঢু মারার সময় ইলিশ কিনতে দরদাম করতে দেখা গেল ইস্কাটন এলাকার বাসিন্দা রূপালী ও তার বর অপূর্ব রায়বে। রূপালী বললেন, “মূলত মাছ-মাংসই কিনতে এসেছি আজ আমরা। মুরগির দামটা কমই দেখলাম। ইলিশের দামও অত বেশি না।

“তবে দেশি মাছ যেগুলো, সেগুলোর দাম বেশি চাচ্ছে। ওখানে জিজ্ঞেস করলাম যে শিং কত করে, ৫০০ টাকার নিচে দিবে না। চিংড়ি পছন্দ আমাদের দু’জনেরই। সেটাও এক থেকে দেড় হাজারের নিচে নাই।”

মাছ বিক্রেতা শুক্কুর আলী ইলিশের দামের বিষয়ে জানান, এক কেজির ওপরেরগুলোর দাম কেজিপ্রতি ১৪৫০ টাকা। আর ১ কেজির নিচেরগুলো ১৩০০ টাকা।

৮০০ গ্রাম সাইজের ইলিশের কেজি ১২০০ টাকা, ৫০০-৬০০ গ্রামেরগুলোর ৮০০ টাকা এবং এর থেকেও ছোটগুলো বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৫৫০ টাকার ভেতরে।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, “সব সাইজের ইলিশই গড়ে কেজিপ্রতি ৫০০ টাকা করে কমছে। গত সপ্তাহে যে ইলিশ আমরা ২০০০ টাকা বেচছি, সেটা এখন ১৫০০ টাকার মাঝে বেচতেছি। কমে বেচতে পারতেছি কারণ এখন মাছের আমদানি বেশি। ইলিশের আমদানি কম হইলে রেট বাইড়া যায়। এখন ইলিশের দাম আর বাড়বে না, বরঞ্চ কমতে থাকবে।” দেশি মাছের দাম বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি মাছের সরবরাহ কম থাকার কথা জানান।

একই কথা বললেন আরেক মাছ বিক্রেতা মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, “সাধারণত চাষের মাছের দাম কম হয়। তবে কম হইলেও আগে যেসব চাষের মাছের কেজি ১৫০ টাকা ছিল, সেগুলা এখন ২০০ টাকা হইছে। যেগুলো ২০০ টাকা ছিল, সেগুলা হইছে ২৫০ টাকা।”

নদীর মাছের দামটা সবসময়ই বেশি থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।
“আর মানুষও এখন হিমশিম খাইয়া আছে, কারণ তাদের হাতে টাকা-পয়সা কম। আগে এত বড় একটা মাছ আইসা নিয়া যাইতো, আর এখন খুব হিসাব কইরা কিনে। বেচতে চাইলেও সহজে কিনতে চায় না।”

কামরুজ্জামান জানান, বড় রুইয়ের কেজি এখন ৫০০ টাকা। গত সপ্তাহে এগুলোর দাম ছিল ৪০০-৪৫০ টাকা। তার কাছে নদী এবং সাগর, দুই জায়গার পোয়া মাছ ছিল। নদীর পোয়া তিনি ৬০০ টাকা করে বিক্রি করলেও সাগরের পোয়া বিক্রি করছেন কেজিপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা করে। নদীর বড় চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ১৫০০ টাকা এবং মাঝারি সাইজের চিংড়ি বিক্রি করছেন কেজিপ্রতি ১৪০০ টাকা করে।

ডিমের দাম কমেছে কিছুটা, মাছ চড়া আগের মতোই
আরও কিছু দোকান ঘুরে দেখা যায়, চাষের বড় শিং এর কেজি এখন ৪০০-৫০০ টাকা এবং মাগুর মাছের কেজি ৫০০-৫৫০ টাকা। কই মাছের দামও ৪০০-৫৫০ টাকার মাঝে।

মধ্যবিত্তদের নাগালের মাঝে থাকা আরেক আমিষজাতীয় পণ্য হল ব্রয়লার মুরগির। মুরগি বিক্রেতা শেখ ফরিদ জানান, “ব্রয়লারের দাম ১০ টাকা কমছে, এটার কেজি এখন ১৭০। দাম কমছে কারণ মুরগির আমদানি ভালো এখন। তবে সোনালীর দাম ১০ টাকা বেড়ে এখন হইছে ৩১০ টাকা।”

Manual3 Ad Code

এ বাজারের গোটা পাঁচেক দোকান ঘুরে জানা যায়, বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা এবং বড় পিঁয়াজের দাম ৬০ টাকা। আদার দাম বেড়ে হয়েছে কেজিপ্রতি ২৪০ টাকা।

সাইফুল ইসলাম রায়হান নামক এক মুদি দোকানি জানান, শুধু আদা নয়, এলাচ, লবঙ্গের দামও বেশি। এলাচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২১০০ টাকায় এবং লবঙ্গের দাম ১৯০০ টাকা। রসুনের দাম ২১০ টাকা। এর নিচে দেওয়া সম্ভব না কারণ ২০৫ টাকায় আমাদের কেনা।

তবে তেল ও আটার দাম কমার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, আগে আটার ২ কেজি প্যাকেটের দাম ছিল ১১৫ টাকা, এখন তা ১১০ টাকা। খোলা আটা এখন কেজিপ্রতি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা ময়দার দাম কেজিপ্রতি ৫৮-৬০ টাকা।

ডিমের দাম কমেছে কিছুটা, মাছ চড়া আগের মতোই
এক দফা দাম কমায় পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের দাম পড়ছে এখন ৮২০ টাকা। কয়েকদিন আগেও সমপরিমাণ তেলের দাম ছিল ৮৪৬ টাকা। তেলের দাম প্রসঙ্গে রায়হান বলেন, বর্তমান দামটা আবার কোম্পানিভেদে ১০-২০ টাকা হেরফের করে।

এছাড়া বর্তমানে দেশি মসুর ডালের দাম ১২০ টাকা এবং মোটা দানারগুলো ৯৫ টাকা। খোলা চিনির দাম কেজিপ্রতি ১৩০ টাকা এবং প্যাকেট চিনির দাম আগের মতোই আছে, ১৪০ টাকা। আলুর দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা।

কাঁচাবাজারের সবকিছুর দামই মোটামুটি স্থিতিশীল। কেজিপ্রতি গাজরের দাম ৭০-৮০ টাকা, পেঁপের দাম ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৭০-১৮০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ফুলকপি ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা এবং বরবটি ৮০ টাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code