ডিসেম্বর মাসে উদ্বোধন হচ্ছে নানিয়ারচরের দীর্ঘতম সেতু

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual6 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটির দুর্গম নানিয়ারচর উপজেলায় চেঙ্গী নদীর উপর নির্মিত পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যে দীর্ঘতম সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। উদ্বোধনের অপেক্ষায় হাজারো মানুষের স্বপ্নের এই সেতুটি। সেতুটি চালু হলে এর সুফল ভোগ করবে নানিয়ারচরের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। শুধু তাই নয়, সেতুটি চালু হলে রাঙ্গামাটির লংগদু-বাঘাইছড়ি ও সাজেক এবং খাগড়াছড়ি পর্যন্ত যোগাযোগ স্থাপন হবে। বহুল আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটতে চলেছে এখানকার মানুষের । সেতুটি নির্মাণের ফলে যেমনটা বাড়বে যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমনি বাড়বে এখানকার মানুষের শিক্ষা,চিকিৎসা ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন। বাড়তে পারে পর্যটন খাতে উন্নয়ন।

নানিয়ারচর সেতু প্রকল্প অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের অর্থায়নে এ সেতুটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইসি ব্রিগেড এর ২০ ইঞ্জিনিয়ার্স কনষ্ট্রকাশন ব্যাটালিয়ান (ইসিবি) ইউনিট। এই সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে লংগদু-বাঘাইছড়ি শুরু করে সাজেক ভ্যালীসহ খাগড়াছড়ি জেলাতেও পৌছানো যাবে।

এদিকে বহু কাঙ্খিত সেতুটি আগামী ডিসেম্বর মাসে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ সেতু প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা। নানিয়ারচরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে নভেম্বর মাসে এ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এই সেতু পার্বত্য চট্টগ্রামের সবেচয়ে দীর্ঘতম সেতু। এটির দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৫০০ মিটার এবং প্রস্থ হচ্ছে ৯.৮ মিটার। এই সেতু প্রকল্পটির মোট বাজেট হচ্ছে ২২৭ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে ভুমি অধিগ্রহনের জন্য খরচ হচ্ছে ৪৬ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা। ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে এই নানিয়ারচর ব্রীজের কাজ শুরু হয়। সেতুটির সাথে সংযোগ সড়ক রয়েছে ২.২ মিটার। এই সড়কের প্রস্থ হচ্ছে ৭.৯ মিটার।

Manual4 Ad Code

এ প্রসঙ্গে নানিয়ারচর সেতুর প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর মো: মিজানুর রহমান ফকির বলেন, এটি হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু। এটির দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৫০০ মিটার। এই সেতুর মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে রাঙ্গামাটি জেলা সদররের সাথে লংগদু উপজেলাকে সংযোগ স্থাপন করা । আশা করছি ডিসেম্বরে এই সেতু উদ্বোধন হবে।

নানিয়ারচরের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ফটোগ্রাফার বোধি কেন্দু চাকমা বলেন, শুধু নানিয়ারচর উপজেলাবাসীর দাবি নয়, এই সেতুটি দাবি বহু মানুষের। এই সেতুটি নির্মাণের ফলে রাঙ্গামাটি থেকে নানিয়ারচর আসতে হতো পানি পথ দিয়ে। মাঝে মধ্যে অনেক কষ্টে আসা-যাওয়া করতে হতো। সেতুটি হওয়ার ফলে এখন অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, সেতুটির ফলে অসুস্থ রোগীকে এখন রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন হাসপাতালে সহজেই নেওয়া যাবে।

নানিয়ারচর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ত্রিদীব কান্তি দাশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে কথা দিয়েছিলেন নানিয়ারচর ব্রীজটি করে দিবেন। কথা রেখে বর্তমানে নির্মাণকাজও সমাপ্ত হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়। তিনি আরো বলেন, এ ব্রীজের কারণে নানিয়ারচর উপজেলার সাথে সমগ্র দেশের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে। আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পুরন হতে চলেছে।

Manual4 Ad Code

নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা বলেন, এখানে ব্রীজটি হওয়ায় এলাকার জনগন অত্যন্ত খুশী।এই ব্রীজটি করে দেয়ায় আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, ব্রীজটি হওয়ায় এখানকার যাতায়াত ব্যবস্থা , শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় অনেক সুবিধা পাচ্ছে নানিয়ারচরবাসী।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code