

ডেস্ক রিপোর্ট :: ণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ সম্পর্কে মার্কিন রিপোর্টের প্রেক্ষাপটে শাহদীন মালিক বলেন, অলিখিত সেন্সর চলছে, এখন আমরা নিজেরা অনেক চিন্তা করে লিখি। ৩০টা টিভি অনেক পত্রিকা, কিন্তু কথা বলতে হয় অনেক চিন্তা করে। ডিজিটাল আইন আর ৫৭ ধারার ভয়ে প্রাণ খুলে কথা বলতে এবং লিখতে পারা যাচ্ছে না। ১০ বছর আগে পত্রিকায় যখন কলাম দিতাম কেনো ভয় কাজ করতো না। এখন ডিজিটাল আইনে আর বিশেষ নিরাপত্তা আইন দিয়ে সরকার সেন্সর আরোপ করছে। কখন কোন আইনে মামলা হয়ে যায়। তাই মিডিয়া বেশি থাকলে কী হবে একটা ভয় কাজ করে। বাক স্বাধীনতার গুনগত মান কমেছে। অনেকে লেখা লেখির জন্য জেলে গেছে।
তিনি বলেন, গুম খুন বিচার বহির্ভূতো হত্যা তো অনেক আগের বিষয়। বলা যায় তখন ১০টা গুম হতো এখন ২টা হচ্ছে। একটি গুমখুনতো হবার কথা না। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে মানুষ গুম হবে তার কেনো বিচার হবে না এটা কখনো কাম্য হতে পারে না। নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের পর আর আর কোন খুনের বিচার সে রকম করে দেখছি না। সেহিসেবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।
তবে মার্কিন রিপোর্টে অন্য যে সবদেশের কথা বলা হয়েছে আমরা তার চেয়ে ভালো অবস্থায় আছি। তবে আশংকার কথা, আমরা যেদিকে যাচ্ছি এটা কেনো ভাবে কাম্য নয়।
শাহদীন মালিক বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যদিও বলা হয়েছে, এই একাদশ নির্বাচনে তেমন কিছু হয়নি, তা সঠিক নয়। ব্যাপকভাবে বিরোধীদলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যা নির্বাচনের আগে পরে দেখা যায়। নির্বাচনের অনিয়ম মধ্যে রয়েছে আগের রাতে সিল মারা। এটা ব্যপক অনিয়মের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেনো ভাবেই নির্বাচন বলার কোন সুযোগ নাই।
শাহদীন মালিক আরো বললেন, ঘটনায় মানবাধিকা লঙ্ঘিত হয়েছে, তা হলো বিপুল সংখ্যক জনগোষ্টি ভাবে ভোটে অংশ নিতে পারেনি। এই অন্যায়ের প্রতিকারের ব্যবস্থা নেই। কেউ হাইকোর্টে মামলা করতে পারে। কিন্তু রংপুরের যুবক কিংবা সাতক্ষীরার গৃহিনী কিভাবে মামলা করবে। সে হিসেবে তার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সম্পর্কে যে রিপোর্ট দিয়েছে তার সত্যতা রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ শীর্ষক রিপোর্টে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশের ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের অনিয়ম, বাক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ, বিরোধী দলের ওপর গ্রেফতার ও নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ইত্যাদি। ভয়েস অফ আমেরিকার সাথে টেলিফোনে ড. শাহদীন মালিক আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার বাংলাদেশের মানবাধিকার সংকান্ত যে সব অভিযোগ করেছে সঠিক যদিও ক্ষমতাসীনরা দ্বিমত পোষন করতে পারে।
গসূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা।