

ডেস্ক রিপোর্ট: নানা বাধা আর সংকটের মধ্যেও এগিয়ে চলছেন নারী। নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় সবার আগে প্রয়োজন নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। এ ক্ষেত্রে নারীর সবচেয়ে বড় বন্ধু হতে পারে তথ্যপ্রযুক্তি। তথ্যপ্রযুক্তির অবারিত ক্ষেত্রে কাজের মাধ্যমে আত্মনির্ভর হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বও নিচ্ছেন নারীরা। আর্থিক, সামাজিক ও মানসিক টানাপোড়েন পেরিয়ে নারীর দৃপ্ত পথচলায় সঙ্গী এখন তথ্যপ্রযুক্তি। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য মতে, দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ছাড়িয়েছে। একই ব্যক্তি একাধিক সিম ও হ্যান্ডসেট ব্যবহার করায় ঠিক কতসংখ্যক মানুষের হাতে হ্যান্ডসেট আছে সেটি বলা কঠিন।
তবে এটি সহজেই অনুমেয় দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশের হাতে মোবাইল ফোন রয়েছে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের দিক থেকে পুরুষের তুলনায় নারীরা খুব একটা পিছিয়ে নেই এটা বলা যায়। একই কথা খাটে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও। দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক সাড়ে ১২ কোটিরও বেশি। নারীরাও এখন মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট তাদের প্রাত্যহিক নানা কাজে ব্যবহার করছেন। দেশে কিংবা বিদেশে থাকা প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলছেন, ভিডিও কল করছেন, ফেসবুক ব্যবহার করছেন, ইউটিউব ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি এই ইন্টারনেট ও মোবাইল ডিভাইসকে অনেক নারীই আয়ের উৎস হিসেবে নিয়েছেন।
নারীর জন্য ঘরে বসে কাজের সবচেয়ে বড় সুযোগটি নিয়ে এসেছে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং। এ ক্ষেত্রে দেশের সাফল্যও ঈর্ষণীয়। সারাবিশ্বে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (বিএফডিএস) চেয়ারম্যান ডা. তানজিবা রহমান সমকালকে জানান, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বর্তমানে দেশের সাড়ে ছয় লাখ নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। মার্কেটপ্লেসের বাইরেও সরাসরি ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করেন এমন ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন।
তবে দেশের মোট ফ্রিল্যান্সারের মাত্র ১৫ শতাংশ নারী। ঘরে বসে কাজ করার দারুণ সুযোগ থাকলেও এ ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে সাধারণত রাতে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে অনেক নারীই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা সহজেই এ খাত থেকে আয় করতে পারেন বলে জানান তিনি।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও দেশের নারীরা এখন উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসছেন। অনেক ছাত্রী, কর্মজীবী নারী ও গৃহিণী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। অনেকে খুব অল্প টাকা বিনিয়োগ করে ফেসবুককেন্দ্রিক উদ্যোক্তা হয়ে সম্মানজনক আয় করছেন।