তুরস্ক-কুর্দি সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ‘দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন’ দরকার : ওজালান

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual4 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট :  কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)’র অস্ত্র পরিহারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর তুরস্ক ও দেশটির কুর্দি জনগোষ্ঠীর মধ্যকার সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ‘দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন’ প্রয়োজন—বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির কারাবন্দী প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওজালান।ইস্তাম্বুল থেকে এএফপি জানায়, রোববার ইস্তানবুলের কাছে ইমরালি দ্বীপের কারাগার থেকে ওজালানের এই বার্তা নিয়ে এসেছেন তুরস্কের প্রো-কুর্দি ডিইএম দলের একটি প্রতিনিধি দল। ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি সেখানে একাকী বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।

Manual5 Ad Code

১২ মে পিকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র সংগ্রামের ইতি টানে। এরপর এই প্রথম ওজালানের সঙ্গে দেখা করল কোনো প্রতিনিধি দল। ১৯৮৪ সালে সংগঠনটি অস্ত্র হাতে নেওয়ার পর থেকে চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ৭৬ বছর বয়সী এই সাবেক গেরিলা নেতা বলেন, ‘আমরা যা করছি, তা একটি আমূল দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। তুরস্ক-কুর্দি সম্পর্ক যেন ভাই-ভাইয়ের সম্পর্ক—তাদের মধ্যে ঝগড়া হতে পারে, কিন্তু একে-অপর ছাড়া বাঁচতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সম্পর্কের পথে যত ফাঁদ ও বিস্ফোরক পুঁতে রাখা হয়েছে, সেগুলো একে একে সরাতে হবে। ভাঙা সেতু ও রাস্তা ঠিক করতে হবে। আমাদের একটি নতুন ভ্রাতৃত্বের চেতনার ভিত্তিতে চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।’ ওজালানের সঙ্গে এবার একমাত্র দেখা করেছেন ডিইএম দলের সংসদ সদস্য পেরভিন বুলদান এবং তার আইনজীবী ওজগুর এরল। দলে থাকার কথা থাকলেও ছিলেন না বর্ষীয়ান তুর্কি মধ্যস্থতাকারী সিররি সুরেয়া ওন্দর, তিনি ৩ মে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

Manual3 Ad Code

সাবেক ডেপুটি-স্পিকার ওন্দর বহু বছর ধরে কুর্দি সংকট সমাধানের চেষ্টা করে রাজনৈতিক মহলে সম্মান অর্জন করেছিলেন। গত ডিসেম্বর থেকে তিনি ওজালানের সঙ্গে কয়েকবার সাক্ষাৎ করেন এবং তার বার্তা তুর্কি রাজনৈতিক মহলে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন।ওজালান বলেন, ‘শেষবারের মতো সিররি সুরেয়া ওন্দরের সঙ্গে কথা বলার তীব্র ইচ্ছে ছিল। তিনি তুরস্কের জন্য এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এমন একটি স্মৃতি রেখে গেছেন, যা আমাদের জীবিত রাখতে হবে।’

Manual3 Ad Code

সরকার বলেছে, তারা পিকেকে-র নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে কুর্দিদের প্রতি সরকারের মনোভাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। দেশটির ৮৫ মিলিয়ন জনগণের মধ্যে কুর্দিরা প্রায় ২০ শতাংশ। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ওজালানকে মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা নেই, কারণ তাতে তার জীবন হুমকির মুখে পড়বে। তবে তার বন্দিত্বের শর্ত কিছুটা শিথিল করা হতে পারে।

Desk: K

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code