দক্ষিণ অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে খেজুরের রস

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক: শীতের সময় দিনে গরম সন্ধ্যা হলেই প্রচুর ঠান্ডা সকালে শিশির ভেজা পথ যা শীতের কন কন আগমনের বার্তা জানান দিচ্ছে। এরই মধ্যে ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় খেজুর গাছে আগাম খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে।যারা খেজুর গাছ থেকে বিশেষ ভাবে রস সংগ্রহ করতে পারদর্শী তাদেরকে গাছি বলা হয়। আগাম রস পাবার আশায় গাছিরা গাছের পরিচর্যা শুরু করেছেন। শীতের মৌসুম শুরু হতে না হতেই খেজুরের রস আহরনের জন্য গাছিরা খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন। গাছিরা হাতে দা নিয়ে কোমরে রসি বেঁধে নিপুন হাতে গাছ চাছেলা করছে। কয়েকদিন পরই গাছিদের খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের ধুম পড়ে যাবে।

শীতের মৌসুম আসলে দেশের দক্ষিন অঞ্চলে সর্বত্র খেজুরের রস সংগ্রহের ধুম পরে জায়। গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গাছিরা। কয়েক দিন পরেই খেজুরের গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করবেন গাছিরা। তাদের মুখে ফুটে উঠবে হাঁসি। শীতের মৌসুম মানেই খেজুর গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে ভরে ওঠে পুরো মহল্লা। শীতের সকালে খেজুর রসের তৃপ্তি অন্যরকম খেজুর রসের ক্ষীর পায়েসের মজাই নাই বা বললাম। প্রতিদিন গ্রামের কোন না কোন বাড়িতে খেজুর রসের খবারের আয়োজন চলে। খেজুরের শুধু রসই নয় গুড় ছাড়া জমেই না।

Manual7 Ad Code

এক সময় ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় গুড় ছিল বিখ্যাত। এ সকল এলাকার খেজুর রসের গুড় চাহিদা ছিল ব্যাপক। সে সময় ব্যবসায়ীরা এলাকা থেকে গুড় সংগ্রহ করে গরুর গাড়িতে করে দেশের বিভিন্ন জায়গার উদ্দেশ্যে রওনা দিতো। কালের বিবর্তনে এক সময়ের ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তের পথে, কারণ আগের মত খেজুর গাছ চোখে পরেনা । কোন চাষি জমিতে আলাদা করে খেজুর গাছের চাষ করেনা। শুধু রাস্তার পাশে কিংবা জমির আইলে যে খেজুর গাছ দেখা যায় তাই এখন শেষ সম্বল রস সংগ্রহের জন্য। তাছাড়া এক কেজি গুড় তৈরি করতে খরচ (৬০-৬৫) টাকা, আর বিক্রি করতে হয় (৮০-৯০) টাকা বড় জোর ১০০ টাকার বেশি নয়। যে কারণে চাষিরা গুড় বানাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। চরফ্যাসন উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার গুলো ঘুরে দেখা যায় যে এখানে খেজুর গুড়ের বেশ চাহিদা রয়েছে। দক্ষিণ আইচা বাজারের এক জন গুড় ব্যাবসায়ী বলেন, আগাম গাছ ছুললে গুড়ের ভালো দাম পাওয়া যাবে কিন্তু এখন আর আগের মত গাছি পাওয়া যাচ্ছেনা। গ্রামাঞ্চলে হাতে গনা কয়েকজন গাছি, যারা খেজুর গাছ কাটতে পারে। পরিশ্রমের তুলনাই লাভ কম, তাই নতুন করে কেউ আর খেজুর গাছ কাটতে চায়না।

Manual4 Ad Code

বন বিভাগের এক কর্মকর্তার সাথে আলাপ করলে তিনি নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, গাছ গুলো অলাভজনক অরিক্ষিৎ হওয়ায় নতুন করে রোপন করে না এবং ইটভাটায় জালানী হিসাবে চাহিদা থাকায় গাছ গুলো কর্তনের ফলে বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ ও খেজুরের রস। ওই কর্মকর্তা আরও জানান সরকারি রাস্তার পাশে তাল গাছ ও খেজুর গাছ রোপন করলে খেজুর রসের জৌলুশ ফিরে আসতে পারে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code