

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী:- আইন-সহায়তা পাওয়া একজন নাগরিকের আইনগত অধিকার। কিন্তু হবিগঞ্জ জেলা’য় এই বিষয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে ‘আমার হবিগঞ্জ’ দৈনিক এই পত্রিকার সম্পাদক সুশান্ত দাশ গুপ্ত । হবিগজ আইনজীবী সমিতি’র কোন আইনজীবী আইনী সহায়তায় যেনো এগিয়ে না আসেন, তার জন্য প্রভাব খাঠানো হচ্ছে এই সম্পাদকের মামলা’য়। এই পত্রিকার সম্পাদক জেলে গেছেন জনস্বার্থে সত্যকথা সাহসের সাথে তার কলমে তুলায়। সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনে, যদি এই কলমে লেখা অক্ষর গুলো সত্যিই মিথ্যা হতো, তাহলে এই পত্রিকার প্রচার বন্ধ করার সুযোগও ছিল , তথ্য মন্ত্রনালয়ের কাছে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে। তথ্য উপাত্ত দিয়ে।
এটি যে কোনো আইনপ্রনেতার জন্য খুবই সহজসরল একটি পদক্ষেপ। কিন্তুু এসব পদক্ষেপে না গিয়ে, একজন পত্রিকার সম্পাদক’কে রাতারাতি জেলে নেওয়া এবং তিনি যেনো কোনো আইনী সহায়তা না পান তার জন্য আইনজীবীদেরকে ভয়ভীতি দেখানো ও ( ভার্চূয়াল কোর্ট ) এজলাসের পাশে দাড়িঁয়ে বিব্রতকর আচরণ দেখানো, একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচারের প্রাপ্তিতে সহায়ক পরিস্থিতি বা পরিবেশ হতে পারে না।
তাছাড়া আইনের উধের্ধ তো আমরা কেউই নই।
মনে রাখতে হবে, একজন নাগরিকের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করাই আইন পেশার নৈতিক আর্দশ । যা হোক, আমি গত রাতে যখন খবর পেলাম, ‘আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা’র সম্পাদকের মামলা’য় আইনী সহায়তার বিষয়ে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ‘আমার হবিগঞ্জ’ দৈনিক পত্রিকাটি’র সম্পাদক সুশান্ত দাশ গুপ্তের পক্ষে আইনী সহায়তায় আমি থাকবো । কারণ আমি সবসময় সত্যপথে কাজ করতে পছন্দ করি। আদালতে আজ কিছু সংখ্যক আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্বরত সময়ে তাদের আচরণ দেখে আমার মনে প্রশ্ন জেগেছে, আসলে তারা কি ভূলে গেছেন এটি আদালত! পবিত্রতম স্হান। এখানে তো মানুষ ন্যায় বিচার পেতে ছুটে আসেন। তাহলে?
এ শহরের পূর্বপুরুষদের বীরত্বের ইতিহাস, আইনপেশার নৈতিক শিক্ষা বা পূর্ববর্তী শ্রদ্ধেয় জন ও তাঁদের গর্বিত অর্জন গুলোর কথা ?
আমি নিশ্চিত বলতে পারি,
আজকের দিনই শেষ কথা নয়। আপনার আজকের কর্ম আগামীর ফলাফল বয়ে আনবে।
‘আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা’র সম্পাদকের পক্ষে আইনীসহায়তা দিতে গিয়ে আদালতে দাড়িঁয়ে এসব আচরণ দেখে কেবল নিজে’কে বলেছি, হে প্রভূ! তুমি আমাদের ধৈর্যশীল করো। কারণ ধৈর্যশীলদের সাথেই তুমি থাকো বলে আমরা বিশ্বাস করি।
নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলরাই একদিন বিজয়ী হবে।
ইতিহাস এটাই সাক্ষ্য দেয়।
হা, এই দীর্ঘ অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সত্যের সন্ধানে সকল লড়াকু মানুষ গুলোর পাঁশে, দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা’র সম্পাদক সুশান্ত কে মুক্ত করার শেষ পর্যন্ত আমি আছি। পাশেঁ থাকবো । আশা ও বিশ্বাস নিয়ে বলছি, ইনশাআল্লাহ হবিগঞ্জের সত্যের আকাশে সূর্য একদিন উদিত হবেই।
লেখকঃ আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ।