দ্রব্যমূল্য বেড়েছে আরেক দফা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual3 Ad Code

ডেস্ক নিউজ: কাঁচাবাজার থেকে একটি পরিবারে যা যা কিনতে হয়, তার প্রায় সবকিছুর দামই আরেক দফা বেড়েছে। এ তালিকায় যেমন চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা আছে, তেমনি রয়েছে সবজি, ডিম ও মুরগির দাম। পিছিয়ে নেই মাছ ব্যবসায়ীরাও। তাঁরাও দাম বাড়িয়েছেন।

Manual2 Ad Code

এই মূল্যবৃদ্ধি সেসব সীমিত আয়ের মানুষের ওপর নতুন আঘাত, যাঁরা ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতিতে নাকাল। এর আগে মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়াকে দায়ী করা হয়েছিল। এবার ব্যবসায়ীরা সামনে আনছেন ট্রাকভাড়া বেড়ে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে। তাঁরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানোর প্রভাব কাঁচাবাজারে পড়েছে। আগামী দিনগুলোয় শিল্পপণ্যের দামেও প্রভাব পড়তে পারে।

দাম কতটা বেড়েছে, তা দেখা যায় সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তালিকায়ই। টিসিবি প্রতিদিন ঢাকার নয়টি বাজার থেকে নিত্যপণ্যের দাম সংগ্রহ করার পর প্রতিবেদন তৈরি করে তা মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠায়। সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, ৪ আগস্ট থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দাম বেড়েছে সব ধরনের চাল, ডাল, আটা, ময়দা, বোতলজাত সয়াবিন তেল, চিনি, রসুন, দেশি পেঁয়াজ, শুকনা মরিচ, আদা, ডিম ও ব্রয়লার মুরগির। কমেছে শুধু খোলা সয়াবিন তেল ও হলুদের দাম।

সবজির দামের হিসাবটি টিসিবির তালিকায় নেই। তবে ঢাকার মহাখালী, মালিবাগ, মগবাজার, মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ সবজি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই দর এক সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিপ্রতি গড়ে ১০ টাকা বেশি। কাঁচা মরিচের কেজি ছাড়িয়েছে ২৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা মাছের দাম গড়ে ২০ টাকা বেশি চাইছেন।

Manual6 Ad Code

মূল্যবৃদ্ধির হার কেমন, তা দেখা যাক চালের ক্ষেত্রে। টিসিবি বলছে, মোটা চাল ২ টাকা এবং মাঝারি ও সরু চাল প্রতি কেজি ৩ টাকা করে বেড়েছে। বাজারে এখন আর ৫০ টাকা কেজির নিচে চাল নেই। মাঝারি চাল প্রতি কেজি ৫৩ থেকে ৫৮ টাকা এবং সরু চাল ৬৫ থেকে ৭৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

এক সপ্তাহের চিত্রে চালের বাজারের পরিস্থিতি পুরোটা উঠে আসে না। টিসিবির হিসাবে, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বাজারে প্রতি কেজি মোটা চালের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩০ টাকা। সেই হিসাবে এখন দাম প্রায় ৬৭ শতাংশ বেশি।

Manual7 Ad Code

বাজারে একসঙ্গে মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের শুরুর দিকে। ওই বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার রোগী শনাক্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ‘লকডাউনের’ আশঙ্কায় বাজারে শুরু হয় আতঙ্কের কেনাকাটা। বেড়ে যায় চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপণ্যের দাম। ২০২১ সালের মাঝামাঝি থেকে করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। যার প্রভাব পড়ে দেশেও। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু এবং মে মাস থেকে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যপণ্যের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, টিস্যু, কাগজ–কলম, খাতাসহ প্রায় সব পণ্যের দাম।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code