

নিউজ ডেস্ক: শিক্ষানীতি বিরোধী নতুন কারিকুলাম সম্পূর্ণ বাতিল ও পরীক্ষা পদ্ধতি চালুসহ ৮ দফা দাবিতে সংবাদ সন্মেলন করেছে সম্মিলিত শিক্ষা আন্দোলন। শুক্রবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সন্মিলিত শিক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ে শিক্ষার্থী অভিভাবক ফোরাম এসব দাবি তুলে ধরে।
এসময় তারা আগামী ১৪ নভেম্বর সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সারাদেশের সব স্কুলের সামনে অভিভাবক সমাবেশ ও ডিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও ২৪ নভেম্বর সকাল ১০টায় শহীদ মিনারে অভিভাবক সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা দেন।
সংবাদ সন্মেলনে সন্মিলিত শিক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর কবিরের সঞ্চালনায় লেখক ও গবেষক রাখাল রাহার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী অভিভাবক কমিটির সদস্য শেখ সাইফুর রহমানসহ বিভিন্ন অভিভাবকরা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ত্রিভুজ চিহ্ন বাতিল করে পূর্বের ন্যায় নম্বর ও গ্রেডভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি করা হোক। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন এই কারিকুলামটি এ দেশের জন্য অনুপযুক্ত। নতুন এই কারিকুলাম সংস্কার করে অন্তত ৫০/৬০ নম্বরে দুই সাময়িক লিখিত পরীক্ষা পদ্ধতি চালু, নম্বর ও গ্রেডভিত্তিক মূল্যায়ন করা হোক। প্রতি বছর প্রতি ক্লাসে রেজিস্ট্রেশন ও সনদ প্রদানের সিদ্ধান্ত বাতিল, স্কুল পিরিয়ডে সমস্ত প্রোজেক্ট সম্পন্নকরণ এবং সমস্ত ব্যবহারিক ব্যয় স্কুলকে বহন করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরো বলেন, এই কারিকুলাম অনুযায়ী নবম শ্রেণিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ অনুযায়ী বিভাগ বা বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ আর থাকছে না। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান মিলিয়ে একটি বিজ্ঞান বই এবং উচ্চতর গণিত ও গণিত মিলিয়ে একটি গণিত বই সবার পাঠের জন্য বানানো হয়েছে। ফলে বিজ্ঞানে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এখন আগের চেয়েও কম বিজ্ঞান ও গণিত শিখবে এবং আমাদের আশঙ্কা তারা উচ্চশিক্ষায় গিয়ে ব্যর্থ হবে।
তারা বলেন, এই কারিকুলামে সাময়িক পরীক্ষার মতো লিখিত পরীক্ষা নেই, রয়েছে প্রতিদিনের শেখার মূল্যায়ন এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের নামে রয়েছে দলগত কাজ, প্রোজেক্ট বা এসাইনমেন্ট। এগুলো কীভাবে করতে হবে তার কিছুই শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারছে না, শিক্ষকও বুঝতে পারছেন না। এক-এক সময়ে এক-এক রকম নির্দেশনা আসছে। অপর্যাপ্ত শিক্ষক আর ঘিঞ্জি ক্লাসের মধ্যে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস বা মূল্যায়ন কিছুই সঠিকভাবে হচ্ছে না। ফলে অভিভাবকদেরও বাড়তি টাকা ও সময় ব্যয় হচ্ছে।