নম্প জ্বালেয়া রাইতোত বই পড়ে রাজু

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual6 Ad Code

নীলফামারী :
ব্যাটাটা খিব কষ্ট কইরছে। পানি হইলেও স্কুল যায়। স্কুল যাওয়া ছাড়ে না। বাড়িত কারেন নাই নম্প জ্বলেয়া রাইতোত বই পড়ে।
ছওয়াটার হাতোত দুইটা টাকা দিবার পাওনা যে স্কুলোত যেয়া কিছু খাইবে। মোর ছওয়া ভালো করি পাস কইরছে, মুই খুব খুশি।
তবে খুশি হলেও ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের মুন্সিপাড়ার মেধাবী ছাত্র রাজু ইসলামের মা আনজুয়ারা বেগম।
রাজু নীলফামারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে।
আনজুয়ারা বলেন, হামার সাধ্য নাই, ব্যাটাটাক ডাক্তার বানেবার। ওয় ডাক্তার হবার চায়। ওতুল্লা খরচ করিবার সামর্থ নাই হাতের উপরের সংসারোত।
রাজুর চাচা আবু তালেব জানান, রবিবার দুপুরে যখন রেজাল্ট হয় তখন বাপের সাথে জমিত কাম কইরছিলো রাজু। রেজাল্ট হইছে শুনিয়া খবর নিনু পাস কইরলে কি না। তখনও রাজু শুনেনি নিজের রেজাল্টের খবর। পরে খবর প্যায়া শুনিল গোল্ডেন এ প্লাস পাইছে।
দিনমজুর বাবা আলম মিয়ার বড় সন্তান রাজু। রয়েছে আরো দুটি মেয়ে। তারাও পড়াশোনা করে। দিনমজুরী করে যা উপার্জন হয় তা দিয়েই পাঁচজনের সংসার চালাতে হয় বাবা আলমকে।
আলম মিয়া জানান, যেদিন স্কুল বন্ধ থাকে মোর সাথে জমিত কাম করির যায় ব্যাটা। কয়টা টাকা বেশি করি পাই। তাতে সংসারোত লাগে। ব্যাটার পড়াশোনার খরচ দিবার পাওনা।
প্রাইভেট পড়ে স্যারের ঘর টাকা নেয় না, পোষাক কিনি দেয়, বন্ধু বান্ধবের ঘর খাতা কলম কিনে দেয়।
তিনি বলেন এখোনো বাড়িত কারেন্ট নিবার পাও নাই। এত কষ্টের মাঝে ব্যাটার ডাক্তার হবার পড়াশোনার খরচ চালাইম কেমন করি।
রাজু জানান, কোন স্যার প্রাইভেটের টাকা নেয় নি আমার কাছ থেকে। পোষাকও কিনে দিয়েছেন। বন্ধুরা ক্যালকুলেটর পর্যন্ত কিনে দিয়েছেন। স্কুলের খরচও স্যার আপারা বহন করেছেন।
আমি যে ভালো রেজাল্ট করেছি বাবা-মা এর মত স্কুলের স্যার আপারা আমাকে সহযোগীতা করেছেন। আমার ইচ্ছে ডাক্তার হওয়ার কিন্তু এই স্বপ্ন কি পূরণ করতে পারবে আমার বাবা !
নীলফামারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব কুমার দাস বলেন, অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র রাজু। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিয়মিত স্কুলে আসতো সে। প্রথম বেঞ্চে থাকতো সে।
সহজ সরল প্রকৃতির মেধাবী এই ছাত্রকে ধরে রাখতে হবে। যেন আলো কোনভাবে নিভে না যায়।
তিনি বলেন, পিএসসি, জেএসসি এবং এসএসসিতে গোল্ডেন পাওয়া ছাত্রটির জন্য এগিয়ে আসতে হবে আমাদের। কারণ একদিন সে সম্পদে পরিণত হতে পারে।
যদি কেউ তার দায়িত্ব বা ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করে দিতে পারেন তাহলে দেশও উপকৃত হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code