নিঃসঙ্গ নারীদের সঙ্গে প্রেমের ফাঁদ, কোটি টাকার মালিক বেনজির - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, সকাল ৬:৪৩, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

নিঃসঙ্গ নারীদের সঙ্গে প্রেমের ফাঁদ, কোটি টাকার মালিক বেনজির

newsup
প্রকাশিত নভেম্বর ২৭, ২০২৩
নিঃসঙ্গ নারীদের সঙ্গে প্রেমের ফাঁদ, কোটি টাকার মালিক বেনজির

পজেটিভ নেটওয়ার্ক ইউএস:

পাইলট পরিচয় দিয়ে নিঃসঙ্গ, সিঙ্গেল মাদার এমন নারীদের টার্গেট করে ফেসবুকে প্রেম, এরপর তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দিতেন নড়াইলের বেনজির হোসেন। পরে বিভিন্ন অজুহাত ও ভুয়া ভিসা দেখিয়ে ওই নারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন।

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানী ঢাকার এক নারীর করা মামলার পর নড়াইলের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। পুলিশ বলছে, বছর দু-এক ধরে এ অপরাধ করে যাচ্ছেন তিনি। বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

সোমবার ( ২৭ নভেম্বর ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এ তথ্য জানান সিটিটিসির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, বেনজির হোসেন নাম পরিবর্তন করে শাহিদ হাসান নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি বিমান চালকের প্রোফাইল নকল করে ফেসবুক প্রোফাইল তৈরি করেন। ফেসবুক প্রোফাইলটিকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য নিয়মিত শাহিদ হাসানের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে বিমান চালানোর ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতেন। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেজে নিঃসঙ্গ নারীদের টার্গেট করে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করতেন।

এরপর প্রেমের ফাঁদ ফেলে, পরে বিয়ের প্রলোভন ও সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাতেন বেনজির। একপর্যায়ে বিভিন্ন বিপদে পড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেডিট কার্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিতেন। বেনজির হোসেন ১৩টি মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে চার মাসে ১ কোটি টাকারও বেশি লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর ওয়ারীর একজন সিঙ্গেল মাদার বেনজির হোসেনের প্রতারণার শিকার হয়ে গত সাত মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা খুইয়েছেন। তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভুয়া ভিসা দিয়েছিলেন তিনি। ওই নারী ওয়ারী থানায় মামলা করেন। এ ছাড়া আরও এক নারীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বেনজির হোসেনের ব্যবহৃত স্মার্টফোনে ৫০ জনেরও বেশি ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে।

বেনজির হোসেন গ্রামের বাড়ি নড়াইলে বসেই এসব প্রতারণা করতেন। তবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের টাকা উত্তোলন করতেন বাড়ি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে যশোর ও খুলনা জেলার বিভিন্ন দোকান থেকে। প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সিম রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত এনআইডি অন্য ব্যক্তির।

বেনজির হোসেন প্রতারণার টাকায় নড়াইলে ৫ বিঘা জমিতে বাগানবাড়ি করেছেন, সেখানে ডুপ্লেক্স ভবন রয়েছে, নড়াইলে বিভিন্ন জায়গায় আনুমানিক ২০ বিঘা মাছের খামার, নড়াইলে বিভিন্ন স্থানে ভবন, যশোর ও সাভারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহুতল ভবনসহ ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পাস বেনজিরের আর কোনো পেশা নেই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।