নিউইয়র্কে কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশনের বিজয় দিবস ও অভিষেক উৎসবে স্টেট সিনেটর শেখ রহমান : মূলধারায় জায়গা পেতে ঐক্যের বিকল্প নেই

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual5 Ad Code

নিউইয়র্ক ডেস্ক: জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য সিনেটর (ডেমক্র্যাট) কিশোরগঞ্জের সন্তান শেখ রহমান বলেছেন, ‘৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজের পাসপোর্ট নিয়ে বহুজাতিক এই সমাজে আমি যদি স্টেট সিনেটর হতে পারি, তোমরা কেন পারবে না। এদেশে জন্মগ্রহণকারী হিসেবে তোমরা তো ইউএস প্রেসিডেন্ট হতেও পারবে। তবে এজন্য দরকার সমাজের প্রতিটি ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-অঞ্চলের মানুষের সাথে একাকার হওয়া। নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে পরোপকারী হিসেবে’।

Manual6 Ad Code

রবিবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে গুলশান টেরেস মিলনায়তনে কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বিজয় দিবস ও নতুন কমিটির অভিষেক উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমান ডিউকের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে স্টেট সিনেটর শেখ রহমান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশি আমেরিকানরা সংখ্যাগতভাবে অনেক। এদেশে জন্মগ্রহণকারী প্রজন্মের সংখ্যাও বাড়ছে। তাই আমাদের সাইডলাইনে থাকার অবকাশ নেই। আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের পথ সুগম করতে মূলধারায় একাকার হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যের পথ বেয়েই মূলধারায় নিজেদের জায়গা করে নিতে হবে। এর বিকল্প নেই। এভাবেই নতুন প্রজন্মকেও উৎসাহিত করতে হবে নিজেদের বাঙালি সংস্কৃতির পরিমণ্ডলেই বহুজাতিক সমাজে মিশে যেতে হবে। সকলকেই আপন করার মধ্যেই মার্কিন রাজনীতিতে জায়গা করা সহজ হবে।’

Manual4 Ad Code

ডেমক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কমিটিতে প্রথম মুসলমান এবং প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান সিনেটর শেখ রহমান বলেন, ‘১৯৮১ সাল থেকে আমেরিকায়। এই ৩৮ বছরের মধ্যে ৩৬ বছর ধরেই ডেমক্র্যাটিক পার্টির সাথে জড়িয়ে রয়েছি। ঘণ্টায় সাড়ে ৩ ডলারের মজুরিতে রেস্টুরেন্টে ডিশ ওয়াশার কাজের মধ্যদিয়ে আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষা লাভের জীবন শুরু। কখনোই হতাশ হইনি। প্রচণ্ড আশা নিয়ে উচ্চ শিক্ষা সম্পন্নের পর পেশাগত জীবনে মনোনিবেশ করেছি।’

জর্জিয়ায় আমার নির্বাচনী এলাকায় হাজার খানেক বাংলাদেশি রয়েছেন দু’লাখ ভোটারের মধ্যে। জর্জিয়া স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে গত বছরের ৬ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হই ৩৪ হাজার ৪২৯ ভোট পেয়ে। সামনের বছরের নভেম্বরে পুনরায় লড়ার ইচ্ছা আছে একই আসন থেকে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ এই প্রবাস জীবনে এই প্রথম আমেরিকায় কিশোরগঞ্জবাসীর সাথে মিলিত হবার সুযোগ হলো। এজন্যেই আমন্ত্রণ পেয়ে সকল কাজ দূরে ঠেলে আটলান্টা থেকে ছুটে এসেছি নিউইয়র্কে। পরিচিত অনেকের সান্নিধ্য পেলাম। তারা আমাকে যে সম্মান দিলেন তা সামনে এগুতে উৎসাহ যোগাবে।

এ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভজন সরকার, এ বি এম ওসমান গণি, মাহফুজুল হাসান টোপন, আইনুল ইসলাম, আলমগীর হোসাইন, মঞ্জুর হোসেন চুন্নু, আকতার হোসেন মনির প্রমুখ।

বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন- সংগঠনের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফজলুল হক। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের পর সকলে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করেন ৩০ লাখ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। এরপর সিনেটর শেখ রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

Manual6 Ad Code

নবগঠিত কার্যকরী কমিটির শপথ অনুষ্ঠানও পরিচালনা করেন সিনেটর শেখ রহমান। কিশোরগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশনের ৫১ সদস্যের নতুন কমিটির কর্মকর্তাগণের মধ্যে একমাত্র নারী দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন শেখ রহমান। তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়ন ব্যতিত সমাজ-রাষ্ট্র এগুতে পারে না। তাই ভবিষ্যতের কমিটিতে যেন বেশী সংখ্যক নারীর সম্পৃক্ততা ঘটে।

Manual4 Ad Code

এ অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্যহারে। এনআরবি নিউজ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code