

ডেস্ক রিপোর্ট: পরিশ্রম, উদ্যোক্তা মনোভাব, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের মাধ্যমে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক নেতা ও কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফ্রিস। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশি আমেরিকানদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পাশে থাকতে হবে।
টাইম টেলিভিশনের এক যুগ এবং বাংলা পত্রিকার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্কের কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানরে আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূলধারার জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি-আমেরিকান অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিজনেস এক্সপো, সেমিনার, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল।
অভিবাসন প্রসঙ্গে জেফ্রিস আইসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক অভিবাসন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সাশ্রয়ী করা এবং অভিবাসী পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমের গুরুত্বও বিশেষভাবে উঠে আসে। জেফ্রিস বলেন, নিজস্ব কমিউনিটি, নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত রাখতে টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকা ভূমিকা রাখছে। গণতন্ত্রে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী রক্ষার অঙ্গীকার করেন।
হাকিম জেফ্রিস বাংলাদেশি আমেরিকানদের ব্যবসা, পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, বিভিন্ন দেশ ও পটভূমি থেকে আসা মানুষের ঐক্যই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি। নিউইয়র্ক পুলিশের বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁর জীবন বাংলাদেশি অভিবাসী কমিউনিটির অবদানেরও প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমের গুরুত্বও বিশেষভাবে উঠে আসে। জেফ্রিস বলেন, নিজস্ব কমিউনিটি, নিউইয়র্ক সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত রাখতে টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকা ভূমিকা রাখছে। গণতন্ত্রে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী রক্ষার অঙ্গীকার করেন।
কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ঈদের দিন ফেডারেল ছুটির স্বীকৃতি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আদর্শ সমর্থন, হালাল খাবারের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলায় কাজ করার কথা জানান। একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে কমিউনিটির উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য জেসিকা গনজালেজ রোহাস, সিনেটর জন সি ল্যু ও প্যাট্রিক মার্টিনেজও বাংলাদেশি কমিউনিটির অগ্রযাত্রায় স্থানীয় গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অধ্যাপক ড. গোলাম এম. মাতবর বলেন, কমিউনিটির ক্ষমতায়ন শুধু ব্যবসা, পেশা বা জনসংখ্যার আকার দিয়ে পরিমাপ করা যায় না; নাগরিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং স্কুল বোর্ড, পরিকল্পনা বোর্ড ও বিভিন্ন কমিশনে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধ, নির্ভরযোগ্য সাংবাদিকতা এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা বাংলা পত্রিকা ও টাইম টেলিভিশনের দীর্ঘ পথচলার প্রশংসা করে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার প্রত্যাশা জানান।
টাইম টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এবং বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের অতিথি, দর্শক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি টাইম টেলিভিশন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেন। দিনব্যাপী আয়োজনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিভিন্ন পর্বের মধ্য দিয়ে দুই গণমাধ্যমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।