নিউইয়র্কে বন্দুক হামলা: যেভাবে হত্যা করা হয় বাংলাদেশি দিদারুলকে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১১ মাস আগে

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি অফিস ভবনে এক বন্দুকধারী ঢুকে গুলি চালায়। গুলিতে একে এক একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে হত্যা করেন অজ্ঞাত বন্দুকধারী। স্থানীয় সময় সোমবার ম্যানহাটনের একটি আকাশচুম্বী ভবনের ভেতরে অফিসে ঢুকে বন্দুকধারী গুলি চালায় এবং তারপর সে আত্মহত্যা করে।

নিউইয়র্ক সিটিকে বন্দুক হামলার ঘটনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম নিহত হন। এ এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত পাচজনের মধ্যে শুধু দিদারুলের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে।

নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস এ ঘটনাকে ‘ঘৃন্য’ এবং ‘জঘন্য কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

৪৪ তলা ভবনটিতে বন্দুকধারী হামলা চালানোর পর সেটিতে লকডাউন আরোপ করা হয়। ওই ঘটনার সময় ব্যস্ত নিউইয়র্কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

যেভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন দিদারুল

নিউইয়র্কে রক্তক্ষয়ী এ ঘটনা শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে। ওই সময় একটি কালো বিএমডব্লিউ গাড়ি নিউইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক পার্ক অ্যাভিনিউতে থামে। বন্দুকধারী এক ব্যক্তি ওই গাড়ি থেকে একটি এম-৪ রাইফেল নিয়ে নামেন। এরপর তিনি ‘৩৪৫ পার্ক অ্যাভ’ নামে ৪৪ তলা ভবনটিতে প্রবেশ করেন। ভবনটির লবিতে ঢুকেই ডান দিকে ঘুরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেন।

Manual1 Ad Code

এরপর বন্দুকধারী এক নারীকে গুলি করেন। তিনি একটি পিলারের পেছনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। নারীকে গুলি করে লবি দিয়ে ‘গুলি করতে করতে’ হেঁটে যেতে থাকেন হামলাকারী। এরপর সিকিউরিটি ডেস্কে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষীকে গুলি করেন হামলাকারী। তখন তিনি লিফটের বোতামে চাপ দেন। একই সময় লবিতে আরেক ব্যক্তিকে গুলি করেন বন্দুকধারী।

Manual6 Ad Code

হামলাকারী লিফট থেকে এক নারীকে নেমে যেতে দেন। তার কোনো ক্ষতি করেননি। এরপর লিফটে করে ৩৩ তলায় যান হত্যাকারী। সেখানে গিয়ে আরেক নারীকে গুলি করে তারপর নিজের বুকে গুলি চালান তিনি।

Manual4 Ad Code

নিউইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেসিকা এস. টিশ জানিয়েছেন, ৩৩ তলায় রুডিন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির অফিস অবস্থিত। যেটি ভবনটি পরিচালনা করত।

বন্দুকধারী কেন ওই ভবনে হত্যাযজ্ঞ চালালেন সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুলের বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর। তিনি বাংলাদেশি ইমিগ্রেন্ট ছিলেন। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছিলেন তিনি। হামলার দিন তার ডিউটি ছিল ব্রঙ্কসের ৪৭ প্রিসেঙ্কটে। কিন্তু হামলার সময় তিনি ৩৪৫ পার্ক অ্যাভ ভবনে কাজ করছিলেন।

দিদারুলের দুই সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রী গর্ভবতী। তিনি তৃতীয় সন্তানের বাবা হতেন।

নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার দিদারুল সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমরা তাকে যে কাজ করতে বলেছিলাম তিনি সেই কাজই করছিলেন। তিনি নিজেকে ঝুঁকির পথে রাখেন। তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করা হয়েছে। তিনি হিরো হিসেবে বেঁচে ছিলেন, মারাও গেছেন হিরো হিসেবে।

Manual6 Ad Code

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  • নিউইয়র্কে বন্দুক হামলা: যেভাবে হত্যা করা হয় বাংলাদেশি দিদারুলকে
  • Manual1 Ad Code
    Manual7 Ad Code