

সম্পাদকীয়: বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস কমছেই না। সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে দাম বাড়ায় চাল, আটা-ময়দা ও ডিম কিনতে ক্রেতাকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
পেঁয়াজের দাম কমলেও আদা, রসুন, হলুদ ও জিরার দাম আরেক দফা বেড়েছে। অথচ বাজারে এসব পণ্যের কোনো সংকট নেই। প্রশ্ন হলো, সরবরাহ ব্যবস্থা যদি স্বাভাবিকই থাকে, তাহলে মূল্যবৃদ্ধির হেতু কী? সম্প্রতি প্রতিযোগিতা কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে বিভিন্ন কোম্পানি-ব্যক্তির ‘কারসাজি’র কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে মর্মে মামলা দায়ের করেছে।
আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে এর শুনানি শুরু হওয়ার কথা। তবে নিত্যপণ্যের অস্থির বাজারে এটি কতটা স্বস্তির জলসিঞ্চন করতে সক্ষম হবে, তা সময়েই জানা যাবে।
অন্যদিকে সমুদ্রে গোষ্পদ তুল্য সুখবর হচ্ছে-মিলগেট, পরিবেশক ও খুচরা এই তিন পর্যায়ে পামতেল সুপার এবং পরিশোধিত খোলা ও প্যাকেট চিনির মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এতে বাজারমূল্যের চেয়ে প্রতি লিটার পামতেলের দাম ১২ টাকা এবং চিনির দাম ৬ টাকা কমানো হয়েছে, যা রোববার থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের দাম যথাসম্ভব কমানোর সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির সুপারিশ বাজারে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
অর্থবছরের শুরুতে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রাখার ঘোষণা দেওয়া হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে তা ধরে রাখা যায়নি। সরকারের তরফ থেকে এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হচ্ছে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশেও মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য হলো, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তা সমন্বয় করতে দেশেও এর দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে অনিবার্যভাবে পণ্য ও সেবা খাতের ব্যয় বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির উল্লম্ফন ঘটিয়েছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে জনজীবনে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছে। করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি থমকে যাওয়ায় দেশের সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। অনেকে কাজ হারিয়েছেন, অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। এতে আয় কমেছে দেশের একটি বড় অংশের মানুষের। এ অবস্থায় যে কোনো উপায়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়াস চালাতে হবে।