পদ্মার ভাঙনে ঝুঁকিতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট আবারো পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। গত দুই মাসে একাধিকবার নদী ভাঙনে ঘাটের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ নিয়ে অন্তত চতুর্থবারের মতো ফেরিঘাট এলাকায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার সরেজমিন পরিদর্শনে ঘাট এলাকার ভাঙন চিত্র স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে রাতারাতি বিলীন হচ্ছে বিশাল এলাকা। স্থানীয়দের ভাষায়, সকালে যে চিত্র দেখা যায়, বিকেলে তার অস্তিত্ব থাকে না। রাত পোহালেই নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

Manual5 Ad Code

রাজবাড়ী, আরিচা এবং দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট, নৌবন্দর ঘাট, নদীগবেষণা এবং পাউবোর সংশ্লিষ্টা দফতরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯০-এর দশক থেকে এ অঞ্চলে ভাঙন শুরু হয়। ১৯৯৪ সালে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। এরপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত কয়েক দফা ভাঙনের কারণে ঘাটের অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়। ২০২০ সালে পুরনো সব ঘাট নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ২০২১ সালে প্রায় এক কিলোমিটার সরে গিয়ে নতুন করে ৬টি ফেরিঘাট স্থাপন করা হয়। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত দৌলতদিয়ায় অন্তত ৫৪ বার ঘাটের অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। বর্তমানে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ায় মোট সাতটি ফেরিঘাট রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি (৩, ৪ ও ৭ নম্বর) সচল। তবে গত চার বছরে ১, ২ ও ৫ নম্বর ঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ৬ নম্বর ঘাটটি এখনো ঠিক আছে, তবে বন্ধ রয়েছে। পানির স্তর আরো বাড়লে এটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Manual7 Ad Code

দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে সচল থাকা ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট নতুন করে ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে। ভাঙনের কারণে ফেরিঘাটের পাশের বাহির চর শাহাদাত মেম্বার পাড়া, ছাত্তার মেম্বার পাড়া, মজিদ মাতুব্বর পাড়া, বাজার, মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ জরুরি মেরামতের অংশ হিসেবে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। দৌলতদিয়া ঘাটের বাসিন্দা মো. ইব্রাহীম ইনকিলাবকে বলেন, পদ্মার ভাঙনে বিলীন হতে হতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার মানচিত্র ছোট হয়ে আসছে। ভাঙন এ রকম অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এ এলাকা পুরো নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।

Manual4 Ad Code

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মধ্যে অভিযোগ উঠছে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা বিআইডব্লিউটিএ কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তারা শুকনোর দিনে ঘুমায় বর্ষা মৌসুমে যখন পদ্মা বানের পানিতে ভরে যায় তখন ভাঙন সারতে তাদের লোক দেখানো দরদ উওলে উঠে। এভাবে ভাঙতে থাকলে রাজবাড়ীর মানচিত্র পাল্টে দৌলতদিয়ার নামই মুছে যাবে। বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নেপাল চন্দ্র দেবনাথ ইনকিলাবকে বলেন, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ফেরিঘাটের দুই কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন দেখা দেয়।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন ইনকিলাবকে বলেন, পদ্মার ভাঙনে দৌলতদিয়ার ফেরিঘাটগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে আমরা বিআইডব্লিউটিএকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছি। তিনটি ঘাট সচল থাকলেও ভাঙন আরো বৃদ্ধি পেলে যানবাহন এবং যাত্রী পারাপার ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ৪ এবং ৭নং ঘাট অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষকে জানানোসহ জরুরি মেরামত এবং সংরক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে তিন দিনে প্রায় সাতশ বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। তবে ফেরি ঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় বস্তা ফেলানো হয়নি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ মিললে বাকি কাজ করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলেই ইনকিলাব নিশ্চিত করছেন।

Manual5 Ad Code

Desk: K

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code