

ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য থাইল্যান্ড পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিনামূল্যে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিট দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে পর্যটকদের শুধু বড় শহর নয়, বরং দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গন্তব্যেও ভ্রমণে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। থাইল্যান্ডের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রী সরাওং থিয়েনথং বুধবার (২০ আগস্ট) জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির নাম রাখা হয়েছে ‘বাই ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রি থাইল্যান্ড ডোমেস্টিক ফ্লাইটস’। এর আওতায় ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ অন্তত দুই লাখ পর্যটককে থাইল্যান্ড ভ্রমণে উৎসাহিত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটি পরিচালনার জন্য ৭০০ মিলিয়ন বাথ (প্রায় ২৬০ কোটি টাকা) বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায়।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যটকরা যখন অনলাইনে বা এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইট থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিট কিনবেন, তখন তারা বাড়তি খরচ ছাড়াই দুটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিট (যাওয়া ও আসা) পাবেন। প্রতিটি টিকিটে ২০ কেজি লাগেজ বহনের সুবিধা থাকবে। এ প্রকল্প আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে, তবে পর্যটকরা সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। এই উদ্যোগে অংশ নেবে থাইল্যান্ডের ছয়টি এয়ারলাইনস—থাই এয়ারএশিয়া, ব্যাংকক এয়ারওয়েজ, নক এয়ার, থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল, থাই লায়ন এয়ার এবং থাই ভিয়েতজেট। সরকার প্রতিটি একমুখী টিকিটে ১ হাজার ৭৫০ বাথ এবং যাওয়া-আসার টিকিটে ৩ হাজার ৫০০ বাথ ভর্তুকি দেবে। এতে পর্যটকরা শুধু ব্যাংকক বা ফুকেট নয়, ইউনেসকো ঘোষিত শহরসহ অন্যান্য জনপ্রিয় গন্তব্যেও সহজে ভ্রমণ করতে পারবেন।
সরকার আশা করছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি অন্তত ৮ দশমিক ৮১ বিলিয়ন বাথ আয় হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব হবে প্রায় ২১ দশমিক ৮ বিলিয়ন বাথ। পাশাপাশি, দেশটির ‘অ্যামেজিং থাইল্যান্ড গ্র্যান্ড ট্যুরিজম অ্যান্ড স্পোর্টস ইয়ার ২০২৫’ ঘোষণাকে এগিয়ে নিতে এ উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে। সরাওং আরও জানান, দেশীয় পর্যটন বাড়াতে নেওয়া ‘হাফ-প্রাইস থাইল্যান্ড ট্রাভেল’ স্কিম ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বড় শহরের সব আসন বুকড হয়ে গেছে, যদিও ছোট শহরগুলোতে এখনো প্রায় ৫৪ হাজার আসন খালি আছে, যা সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। থাইল্যান্ডের এই বিনামূল্যে টিকিট প্রকল্পকে বিশেষজ্ঞরা পর্যটন খাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি শুধু দেশের অর্থনীতিকেই নয়, বরং বৈশ্বিক পর্যটন মানচিত্রেও থাইল্যান্ডকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।