

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) :
করোনার কারণে সাড়ে ৪ মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদন ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে দেশের একমাত্র দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী মধ্যপাড়া পাথরখনিতে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শ্রমিকদের মাঝে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এক শিফটে ভুগর্ভ থেকে ২৬১ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। তবে তিন শিফটে পুরোদমে পাথর উত্তোলন করতে অন্তত মাস খানেক সময় লেগে যাবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে ২০০৭ সালে ভুগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করে। প্রথমদিকে দৈনিক দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা গেলেও পরে তা মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ মেট্রিক টনে নেমে আসে। এতে খনিটি লোকসানে মুখে পড়তে পারে এমন অবস্থায় খনির পাথর উত্তোলন বাড়াতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৯২ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের বিপরীতে ১৭১ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলারে খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন কাজের জন্য এমজিএমসিএলের সাথে চুক্তিবন্ধ হয় বেলারুশের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া ট্রেস্ট কনর্সোটিয়াম (জিটিসি)।
এদিকে খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন কাজ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে খনি কর্তৃপক্ষের সাথে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া ট্রেস্ট কনর্সোটিয়ামের (জিটিসি) মতবিরোধের কারণে একাধিকবার পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। এসব কারণে জিটিটি ৯২ লাখ টন পাথরের স্থলে পাথর উত্তোলন করে মাত্র ৩০ দশমিক ৭৬ লাখ টন। জিটিসি ১২টি স্টোভ নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেও স্টোভ নির্মাণ করেছে মাত্র ৬টি। এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি মাসে জিটিসির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। জিটিসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে চুক্তির মেয়াদ। এ পরিস্থিতিতে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলেও করোনার কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় খনির পাথর উত্তোলন। এতে
বেকার হয়ে পড়েন প্রায় ৮০০ খনিশ্রমিক। এ সময়ে বকেয়া বেতনভাতা ও কাজে যোগদানের দাবিতে শ্রমিকরা বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ-সমাবেশসহ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে খনি এলাকায়। এসব বিষয় নিয়ে ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর নির্বাচনী এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য ও বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি’র দিকনির্দেশনায় এমজিএমসিএল, জিটিসি, পেট্রোবাংলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকাল ৫টা থেকে আবার মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর উত্তোলন শুরু করা হয়।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এক শিফটে মোট ২৬১ টন পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দিনে ১৬৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগানো হয় এবং ১৫০ জন শ্রমিকের নমুনা পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল শ্রমিকের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে কাজে লাগানো হবে। সব শ্রমিককে কাজে লাগলে তিন শিফটে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে। তবে এতে অন্তত মাস খানেক সময় লেগে যাবে।