

অনেক শিল্পশাখার মতো সংগীতেরও কোনো সীমা নেই। তবে পানির নীচে, সমুদ্রগহ্বরে গানবাজনা করা মোটেই সহজ কাজ নয়। ডেনমার্কের এক গোষ্ঠী সেই অসাধ্যসাধন করছে এবং মানবতার বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে।
একটি মঞ্চের উপর পাঁচটি অ্যাকোয়েরিয়াম দেখলে আশ্চর্য না হয়ে উপায় নেই। ‘বিটুইন মিউজিক’ নামের ডেনিশ ব্যান্ড পানির নিচেই গানবাজনা করে অসাধারণ এক সাউন্ড এক্সপেরিমেন্টের সাহস দেখিয়েছে। ব্যান্ডের গায়িকা নেনা বেক সেই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, ‘‘পানির নীচে গান গাইলে শ্বাস ছাড়ার উপায় নেই।
কারণ ছোট্ট এক এয়ার বাবলের মধ্য দিয়ে গান গাইতে হচ্ছে। সব বুদবুদ বার করে দিলে মাইক্রোফোনে প্রচণ্ড শব্দ হবে৷ তাই ছোট্ট বুদবুদ বার করে সামান্য শব্দ করে সেটি আবার শুষে নিতে হবে। এভাবেই গান গাওয়া যায়।”
ডেনমার্কের ওরহুস শহরে নেনা এক পারফরম্যান্সের জন্য মহড়া করছেন। সংগীতশিল্পীরা দেড় মিনিট পর্যন্ত পানির নীচে থাকতে পারেন৷ তারপর তাঁদের নিঃশ্বাস নিতে হয়। নেনা অবশ্য বলেন, ‘‘আসলে যখন ইচ্ছে হয় তখনই মাথা তুলি৷ আমাকে নীচেই থাকতে হবে এমন কোনো চাপ নেই৷ আমার মতে, সবসময়ে উপরে উঠে বাতাস নেবার সুযোগ থাকা জরুরি।”
ড্রামের মতো বাদ্যযন্ত্রের ক্ষেত্রে পানির চাপ বাধা সৃষ্টি করে। কোন বাদ্যযন্ত্র পানির নীচে আদৌ বা কতটা ভালো কাজ করে, তা হাতেনাতে খতিয়ে দেখতে ‘বিটউইন মিউজিক’ গোষ্ঠীর সদস্যরা অসংখ্য পরীক্ষানিরীক্ষা করেছেন।
ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরা অসংখ্য শরণার্থীর স্মরণে মর্টেন বলেন, ‘‘যে পানিতে এই শরণার্থীরা ডুবে যাচ্ছেন, আমরা সেই একই পানিতে রয়েছি৷ আমাদের মনে সেই বোধ ছিল৷ বেশ কিছুকাল ধরে ইউরোপে শরণার্থীদের অভিজ্ঞতা, শরণার্থীদের পরিস্থিতি মাথায় রেখে সেই পানিতে পারফর্ম করতে গিয়ে অনেক আবেগ জেগে উঠছিল৷ সেটা ছিল এক কঠিন অভিজ্ঞতা৷”