

নিউজ ডেস্কঃ ইউক্রেন সীমান্তে সৈন্যসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা সামরিক মিত্রের বাদানুবাদ দিনকে দিন ভয়ংকর আকার নিচ্ছে। আর সেই বাদানুবাদের বিস্ফোরণ দেখা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিষয়ক এক বৈঠকে।
ওই বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাবরভ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশটি তার ঘরের পাশে ন্যাটো সামরিক জোটের নতুন কোনো তৎপরতা সহ্য করবে না। খবর বিবিসি বাংলার।
ল্যাবরভ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট এ বার্তা লঙ্ঘন করলে ইউরোপে আবারও যুদ্ধ বাঁধতে পারে। এ সময় তিনি ইউরোপকে আবারও ‘যুদ্ধের দুঃস্বপ্ন’ দেখতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
সুইডেনের বৈঠকে রাশিয়া ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি হলো ন্যাটো জোটকে ইউরোপের আগে নতুন কোনো বিস্তৃতির চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
এ প্রস্তাবের ব্যাপারে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এখন পর্যন্ত কোনো কিছু বলেননি। তবে তিনি পাল্টা সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনে অভিযান চালালে রাশিয়াকে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।
২০১৪ সালে রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল ও ইউক্রেনের রুশ অধিকৃত অঞ্চল ডনবাসে সশস্ত্র বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে গত সাত বছর ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দিন যত এগোচ্ছে ততই এ টানাপোড়েন গভীর হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, একে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে পারে।
সুইডেনে বৃহস্পতিবারের বৈঠক হয়েছে ইউক্রেন সীমান্তে ৯০ হাজারের বেশি রুশ সৈন্য সমাবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, উভয় পক্ষই ইউক্রেন নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ব্যাপারে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছেন। এমনকী অদূর ভবিষ্যতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বৈঠকের বিষয়েও কথা হয়েছে। তবে বৈঠকটি কবে হতে পারে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। চলতি বছরের জুনেও পুতিন ও বাইডেনের মধ্যে বৈঠকে ইউক্রেনে সৈন্য সমাবেশের বিষয়ে আলোচনা হলেও তাতে কোনো কাজ হয়নি রাশিয়ার নতুন করে সৈন্য সমাবেশের ঘটনায় সেটি স্পষ্ট।