প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থীতা বহালের বিষয়ে সিনিয়র সচিব মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

ফারজানা আক্তার,সহকারী শিক্ষক,চট্রগ্রাম

Manual3 Ad Code

আজ হতে চির উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির সত্যি তুমি মহান উদার বাদশাহ আলমগীর।” বাদশাহ আলমগীরের পুত্র এক মৌলভীর কাছে পড়ত।এক সকালে বাদশাহ দেখেন তাঁর পুত্র পানি ঢালছে আর মৌলভী নিজ হাতে পা ধৌত করছে।।বিষয়টাতে বাদশাহ ভীষণ দুঃখ পান।তাই মৌলভীককে ডেকে বললেন কেন আমার পুত্র নিজ হাতে আপনার পা ধুয়েঁ দে নি।মৌলভী বাদশাহর এমন কথায় বিমোহিত হয়ে চরণ দুটো বলেন।কাজী কাদের নেওয়াজের “শিক্ষাগুরুর মর্যাদা”কবিতায় একজন বাদশাহ কিভাবে একজন শিক্ষককে নিখুঁতভাবে মর্যাদা দিয়েছে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।এ কবিতার সারমর্মের অবতারণা মূলত আজকে প্রাইমারি শিক্ষকের বাস্তবতা নিয়ে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ বিচক্ষণতায় প্রাইমারি ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছে।তবে সে সুবাতাস ছড়াতে পারছে না কিছু নীতিমালার কারণে।এমন একটি নীতিমালা হল ২০১৯ নিয়োগবিধি। মাননীয় সচিব,আপনার কাছে আকুল আবেদন ২০১৯ খসড়া নিয়োগ বিধিটা আবার পুনর্বিবেচনা করুন।সহকারী শিক্ষকদের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার,উপজেলা শিক্ষা অফিসার,ইউ আর সি সহকারী ইন্সট্রাক্টর,ইন্সট্রাক্টর, ইন্সট্রাক্টর পিটিআইসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সকল পদে বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতির সুযোগ করে দিন। সহকারী শিক্ষক পোস্টটা ব্লক পোস্টে পরিণত হচ্ছে।সব সরকারি সেক্টরে বিভাগীয় প্রার্থীতা আছে।এটা পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতির সুযোগ।সবাই সে সুযোগ পাচ্ছে আমরা কেন বঞ্চিত বলতে পারেন?? মাননীয় সচিব বিষয়টা উপলব্ধি করুন আমাদের বিভাগীয় প্রার্থীতা বাতিল আমাদের কাজের স্পৃহা কমিয়ে দিয়েছে।আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে হতাশার সঞ্চার করেছে।আমরা তো বেশি কিছু চায় নি।শুধু চাওয়া সরকারি অন্যান্য অধিদপ্তর বা প্রতিষ্ঠানের মত বিভাগীয় প্রার্থীতা। একটু লক্ষ্য করুন কোন সহকারী শিক্ষক ২০১৬ সালে সহকারী শিক্ষক হলে ২০ বছর পর ২০৩৬ সালে প্রধান শিক্ষক হল।ধরুন চাকরিতে ক্রবেশের সময় তারঁ বয়স ত্রিশ বছর ২০ ছর পর তারঁ বয়স হবে ৫০ বছর।বর্তমান নিয়োগবিধি অনুযায়ী এ পোস্ট ৩ বছর জব করার পর সহকারী উপজেলা শিক্ষাঅফিসার। হতে পারবে।তাঁর সাথে নিয়োগকৃত অনেকে থাকবে একই যোগ্যতার একই সালে নিয়োগ।পদোন্নতি পোস্ট কম বাকিদের জন্য কি থাকবে বলুন।হয়তো অনেকের নিয়োগ সাল এক সাথে হওয়া সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক হতে পারবে না।যারা হতে পারবে না তাঁদের জন্য উচ্চতর গ্রেডের সুযোগ নেয়। আবার ফিল্ডে অনেক বছর কাজ করে বিভাগীয় প্রার্থীতার মাধ্যমে প্রশাসনে যুক্ত হয়ে ফিল্ডে কি ধরনের পরিকল্পনা প্রযুক্ত হবে সে বিষয়টা সহজে অনুধাবন করতে পারবে।যারা নন ক্যাডার বা সরাসরি এসব পোস্টে কাজ করছে বলছি না তাঁরা পারবে না।আমরা বলতে চায় ফিল্ডের বিষয়টা সঠিকভাবে অনুধাবন করার জন্য যোগ্যতার সাথে অভিজ্ঞতা থাকলে শিক্ষাবান্ধব কাজটা আরও বেশি ফলপ্রসূ হয়। সহকারী শিক্ষক পোস্টটা ব্লক পোস্টে পরিণত না করলে শিক্ষকরা বাদশাহ আলমগীর শিক্ষকদের যে মর্যাদা দিয়েছেন তা পুরোপুরি ফিরে না পেলেও আমাদের জন্য কিছুটা প্রশান্তির হবে।আর সমাজে আমাদের শিক্ষক হিসেবে অবস্থান সুদৃঢ় হবে।বিভাগীয় পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষার শিখন বিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত হলে শিক্ষকরা ডিপিএড করার সাথে সাথে এম এড করবে।প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে শিক্ষকরা গবেষণা কর্ম করতে আগ্রহী হবে।এর ফলে কার্যকর শিক্ষা পদ্ধতির প্রয়োগের সাথে সাথে মান সম্মত শিক্ষার দিকে আমরা ধাবিত হব। কর্মী প্রণোদনার মাধ্যম হবে।ভাল ভাল দক্ষ মেধাবী শিক্ষক এখানে থেকে সেবা দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষাকে এক উজ্জ্বল দ্বার প্রান্তে নিয়ে যাবে।সব কিছু বদলেছে।প্রাথমিক শিক্ষায় এখন উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকের সমাগম হয়েছে।করোনাকালীন তাদের অনলাইন ক্লাস তার প্রমাণ।যেখানে মাধ্যমিক,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের চেয়ে প্রাথমিকের শিক্ষকরা এগিয়ে।এখন আমাদের ছোট করে দেখার কোন অবকাশ নেয়।আমাদের শিক্ষকদের প্রাপ্ত সম্মান ফিরিয়ে দিন। সহকারীদের বিভাগীয় প্রার্থীতা পুনর্বহাল করে একে ব্লক পোস্টের হাত থেকে রক্ষা করুন।প্রাথমিক শিক্ষাকে সামনে এগোতে সহায়ক হবে বিভাগীয় প্রার্থীতা পুনর্বহাল।সম্মানিত সচিব মহোদয় এ বিষয়ে দৃষ্টি দিয়ে সহকারী শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রার্থীতা বহাল রাখবেন।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code