ফজরের জামাত চলা অবস্থায় সুন্নত পড়া যাবে?

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual7 Ad Code

ইসলামিক ডেস্কঃ 

প্রশ্ন: ফজরের নামাজের জামাত শুরু হওয়ার পর কোনো মুসল্লি যদি মসজিদে এসে বারান্দায় অথবা মসজিদের পেছনের দিকে ফজরের সুন্নত নামাজ পড়তে চান তা কি তার জন্য জায়েজ হবে? 

কুরআন ও হাদিসের আলোকে মাসআলাটি জানার আগ্রহ প্রকাশ করছি। এ ব্যাপারে কোনো কোনো ব্যক্তি মত প্রকাশ করে থাকেন যে, ‘ফরজ নামাজের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেলে অন্য কোনো নামাজ বা সুন্নত নামাজ (বিশেষ করে ফজরের সুন্নত) সম্পূর্ণ হারাম, সুন্নত বিরোধী।’

উত্তর: কোন ব্যক্তি যদি ফজরের ইকামত চলাবস্থায় বা জামাত চলাবস্থায় মসজিদে আসে আর তার কাছে মনে হয় যে সুন্নত পড়ে অন্তত এক রাকাত পাওয়া যাবে তাহলে এ ব্যক্তির জন্য মূল জামাতের কাতার থেকে দূরে বারান্দায় বা খুঁটির আড়ালে ফজরের সুন্নত আদায় করা জায়েজ আছে।

একাধিক সাহাবা তাবেয়ীন থেকে ইকামত শুরু হওয়ার পর জামাত চলাবস্থায় ফজরের সুন্নত আদায় করা প্রমাণিত আছে।

Manual3 Ad Code

যেমন: এক. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু মুসা আশআরী ও হুযায়ফা (রা.) একবার সাঈদ ইবনে আসের নিকট থেকে বের হলেন। ইতিমধ্যে ফজর নামাজের ইকামত হয়ে গেল। তখন ইবনে মাসউদ (রা.) দু’রাকাত সুন্নত পড়ে লোকদের সঙ্গে নামাজে শরীক হলেন, আর আবু মুসা আশআরী ও হুযায়ফা (রা.) কাতারে প্রবেশ করলেন। (শরহু মাআনীল আসার, ১/২৫৫)

Manual2 Ad Code

দুই. আবু মিজলায (রাহ.) বলেন আমি ফজর নামাজে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সঙ্গে মসজিদে এমন সময় প্রবেশ করলাম যে ইমাম নামাজ পড়াচ্ছিলেন, তখন ইবনে আব্বাস (রা.) দু’রাকাত সুন্নত পড়ে ইমামের সঙ্গে শরীক হলেন। আর ইবনে ওমর (রা.) ইমামের সঙ্গে নামাজে শরীক হয়ে গেলেন। ইমাম সালাম ফেরানোর পর তিনি সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকলেন অতপর উঠে দুরাকাত নামাজ আদায় করলেন। (প্রাগুক্ত ১/২৫৫)

তিন. আবু দারদা (রা.) বলেন আমি একদা লোকদের নিকট এমন সময় আসি যে তারা কাতারবদ্ধ হয়ে ফজর নামাজ আদায় করছিল। আমি তখন ফজরের দু’রাকাত সুন্নত আদায় করি অতপর তাদের সাথে নামাজে শরীক হই। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদিস ৬৪৮২)

চার. নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ইবনে ওমর (রা.) একদা ফজর নামাজের জন্য পোশাক পরিধান করছিলেন। ইতিমধ্যে তিনি ইকামত শুনতে পেলেন, তিনি তখন কামরাতে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত আদায় করলেন অতপর বের হয়ে লোকদের সাথে ফরজ আদায় করলেন। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদিস ৪০১৯)

পাঁচ. আবু উসমান নাহদী রাহ. বলেন আমরা ওমর রা.-এর নিকট ফজরের সুন্নত না পড়ে এসে যদি দেখতাম যে তিনি ফজরের জামাতে আছেন তাহলে আমরা মসজিদের শেষ দিকে এসে সুন্নত পড়ে নিতাম অতপর জামাতে শরীক হতাম। (শরহু মাআনীল আছার ১/২৫৬)

তাবেয়ীদের মধ্যে আরো যাদের থেকে ফজরের জামাত চলাবস্থায় সুন্নত পড়া প্রমাণিত আছে তারা হলেন, সাঈদ ইবনে জুবাইর, হাসান বসরী, ইকরিমা, ইবরাহীম নাখায়ী (রহ.)। ইবনে বাত্তাল (রহ.) উমর (রা.) এর  আমলও এমন ছিল বলে উল্লেখ করেছেন।

Manual7 Ad Code

কোনো কোনো সাহাবী, তাবেয়ী ইকামত বা জামাত চলাবস্থায় মসজিদের অভ্যন্তরে ফজরের সুন্নত না পড়লেও মসজিদের বাহিরে বা মসজিদের দরজা সংলগ্ন স্থানে পড়ে নিতেন। তন্মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.), হাম্মাদ, আব্দুর রহমান ইবনে মা‘কিল, আতা, ইবরাহীম নাখায়ী (রহ.) উল্লেখযোগ্য।

Manual7 Ad Code

উপরোক্ত সাহাবা, তাবেয়ীদের আছার, আমল ও ঘটনাবলী থেকে একথা সুপ্রমাণিত যে, ফজরের ইকামত চলার সময় বা ইকামতের পরও মসজিদের বাহিরে বা কাতার থেকে দূরে মসজিদের বারান্দায় বা কোনায় কিংবা খুঁটির আড়ালে ফজরের সুন্নত পড়া জায়েজ আছে।

মহান পূর্বসুরী এ সকল সাহাবা, তাবেয়ীদের বক্তব্য ও আমল থাকা সত্ত্বেও হাদিসের মর্ম ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ না বুঝে ফজরের সুন্নত পড়াকে নাজায়েজ, হারাম বা বিদআত বলা বড় অন্যায়। এমন কথা প্রকারান্তরে সাহাবা-তাবেয়ীদের আমলকেও বিদআত ও হারাম বলার নামান্তর।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code