ফুলছড়ির চরাঞ্চলে মরিচ চাষ করে শত শত কৃষক এখন লাখপতি
লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago
Manual3 Ad Code
শাহ আলম যাদু, ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) :
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলে এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। কাঁচা মরিচ বিক্রির টাকায় চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। অনেকে মরিচ চাষ করে ইতিমধ্যে লাখপতি বনে গেছেন।
ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় প্রায় ৮শ ৫০ হেক্টর জমিতে এবার মরিচের চাষ করা হয়েছে।
ভাদ্র মাসের শেষে এবং আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহে মরিচ চাষের উপযুক্ত সময়। পৌষ-মাঘ মাসেই মরিচ বিক্রি করতে পারে কৃষকেরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত চরাঞ্চলীয় ইউনিয়ন ফুলছড়ি ইউনিয়নের গাবগাছি গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান এ বছর ৬ বিঘা জমিতে বগুড়ার দেশি জাতের লম্বা মরিচ লাগিয়েছেন। তার ওই ৬ বিঘা জমিতে পরিমাণ মতো গোবর সার ব্যবহার করার ফলে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে।
তিনি বলেন, তার ৬ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করতে প্রায় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ওই ৬ বিঘা জমি থেকে কাঁচা মরিচ উৎপাদন হবে প্রায় ৯০ থেকে ১ ‘শ মণ। বর্তমান বাজারে কাঁচা মরিচের মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে। সে হিসেবে মরিচ বিক্রি হবে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকার। আবার ওই মরিচেই যদি শুকানো যায় তাহলে ১৫ থেকে ১৮ মণ শুট মরিচ হবে। পুরনো শুকনো মরিচের মন বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী দাম হচ্ছে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে কাঁচা মরিচ শুকনো করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় কৃষকদের। তাই অনেক কৃষক কাঁচা মরিচই বিক্রি করে দিচ্ছেন আর ওই টাকা দিয়ে ভুট্টা ও বোরো ধানের আবাদে খরচ করছেন। এদিকে বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, ঢাকা থেকে বিভিন্ন কোম্পানি ও আড়ৎ এর লোকেরা (মরিচের ব্যাপারীরা) চরাঞ্চলে এসে মরিচের ক্ষেত দেখেন। যেসব মরিচ চাষি মরিচের ক্ষেত বিক্রি করতে ইচ্ছুক তাদের আবাদকৃত জমি আগাম কিনে নিচ্ছেন। কিছু দিন পর তাদের লোকজন এসে ক্ষেত থেকে মরিচ তুলে নিয়ে যাবে। শুধু নুরুজ্জামান নয়, তার মতো একই গ্রামের আরো শতাধিক কৃষক এবার মরিচ চাষ করেছেন। ফুলছড়ি ইউনিয়নের কালুরপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। প্রতি বছর তার উৎপাদিত মরিচ প্রাণ কোম্পানি ক্রয় করে নিয়ে যায়।
গাইবান্ধার সবচেয়ে বড় মরিচের হাট ফুলছড়ি। এই হাটটি নদী সংলগ্ন হওয়ায় প্রচুর মরিচের আমদানি হয়। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার এ হাটে কাঁচা মরিচ কিনতে আসেন নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, রংপুর,বগুড়া, জয়পুরহাট থেকে মরিচের ব্যাপারীরা। কারণ হিসেবে তারা জানান ফুলছড়ির চরাঞ্চলের মরিচগুলোর ঝাল বেশি। প্রতি হাটে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০ মণ কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান হাটের ইজারাদার। পূর্ব গাবগাছি গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, সার কম ব্যবহার হয় খরচও অনেক কম অথচ লাভজনক এমন ফসল হিসেবে চাষিরা মরিচ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজেও এবার ৪ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন।
ফুলছড়ি দেলুয়াবাড়ি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোহাম্মদ নুর রব্বানী জানান, যাদের জমি নেই তারাও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে মরিচ চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। মরিচ চাষ করে চরাঞ্চলের শত শত কৃষক এখন লাখপতি হয়ে গেছেন। ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের পাগলার চরের মরিচ চাষি সাইফুল ইসলাম জানান, এবার মরিচের ফলন খুব ভালো হয়েছে। দামও একটু বেশি। মরিচ বিক্রি করে গত বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে বলে জানান তিনি।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান কোকিল বলেন, আমরা সব সময় কৃষকদের কাছে গিয়ে মরিচ চাষের বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করি। আমাদের পরামর্শ মোতাবেক কৃষকরা সার ও কীটনাশক ব্যবহার করায় এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেমা কাওছার মিশু বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার চলতি মৌসুমে ফুলছড়ি উপজেলায় ৮শ ৫০ হেক্টর জমিতে কৃষকরা মরিচের আবাদ করেছেন । মরিচের ফলনও বাম্পার হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভের ফলে চরাঞ্চলের কৃষকেরা দিনদিন মরিচ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।