

নিউজ ডেস্কঃ
৭ বছর আগের কথা। সানজিদার ইচ্ছে জাগে মডেল হবার। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়াল হিজাব। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অডিশন পর্বে টিকে গেলেও তারা সাফ জানিয়ে দেয় হিজাব পড়া চলবে না। এদিকে সানজিদাও নাছোড়বান্দা, তিনি মডেল-ই হবেন, তবে হিজাবকে বাদ দিয়ে নয়। তারপর নিজের ফেসবুক প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে শুরু করলেন ফ্যাশন ব্লগিং। প্রথমদিকে কেবল হিজাব নিয়ে কাজ করলেও পরবর্তীতে বোরকা-আবায়া, শাড়ি, গহনা ও প্রসাধনী সামগ্রী যুক্ত করেন। অল্প কয়েক দিনেই ছড়িয়ে গেল সুনাম। সানজিদার উপস্থাপনার দক্ষতায় আকৃষ্ট হতে থাকলেন দর্শক-শ্রোতা। মাঝেমধ্যে এমন হয়ে দাঁড়াল যে, তিনি যে পণ্যের বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন সেটিই স্টকআউট হয়ে যাচ্ছে মুহূর্তেই। এরপর থেকেই বিভিন্ন নামি-দামি প্রতিষ্ঠান থেকে আমন্ত্রণ পেতে শুরু করলেন তাদের ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসাবে কাজ করার। এভাবেই শুরু হলো সানজিদার স্বপ্ন জয়ের পথচলা।
বর্তমানে সানজিদা একজন সফল সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। ফেসবুকে সাড়ে ৮ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে তার। গত কয়েক বছরে তিনি কাজ করেছেন কয়েক শত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে। সানজিদার পদচারণা বহুমুখী। তিনি কাজ করেন পোশাক নিয়ে, প্রসাধনী নিয়ে, ফ্যাশন নিয়ে। রাজধানীর বনানীতে এই তরুণী শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে সম্পন্ন করেন। এখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি।
সানজিদা বলেন, ‘শুরুটা বন্ধুর ছিল। পরিবার-পারিপার্শ্বিকতা থেকে বাঁধা পেতে হয়েছে। কিন্তু আমি দমে যাইনি। মজার ব্যাপার হলো প্রথমদিকে হিজাবের জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো আমাকে নেয়নি তারা নিজেরাই এখন আমার কাছে আসছে, তাদের সাথে কাজ করতে বলছে।’ ২০১৭ সাল থেকে সানজিদা ইউটিউবিং শুরু করেন। ইউটিউবে হিজাব ও মেকআপের টিউটিরিয়াল ভিডিও তৈরি করেন। সফলতা পেয়ে যান অল্প দিনেই, অর্জন করেন ইউটিউবের সিলভার প্লে বাটন।
ভবিষ্যত নিয়ে সানজিদার ভাবনা একটু ভিন্ন। একবার কোন এক অজানা কারণে তার ফেসবুক পেজ ডিজেবল হয়ে যায়। ফলে কর্মরত প্রতিষ্ঠান ও ফলোয়ারদের থেকে বিচ্যুত হয়ে বিপাকে পড়েন তিনি। তখন থেকে মাথায় দানা বাঁধে তাকে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ কোনো টেকনিক্যাল সমস্যায় পড়লে সাহায্য করতে পারেন। বর্তমানে তিনি এই লক্ষ্যেই ছুটছেন। পড়ছেনও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
সানজিদা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন। স্বপ্ন দেখাতেও ভালোবাসেন। ইতিবাচক মনোভাবের ইতোমধ্যেই হয়ে উঠেছেন অনেক তরুণীর অনুপ্রেরণা। তার দেখাদেখি অনেকেই ফ্যাশন ব্লগিংয়ে পা বাড়িয়ে সফল হয়েছেন। আগামীতেও এই পথচলা অব্যাহত থাকবে বলেই প্রত্যাশা করেন সানজিদা।