বসন্তে থোকায় থোকায় ফুটে থাকে এই সবুজ বহুপত্রী ফুল

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code
আজাহার ইসলাম

গ্রামাঞ্চলে মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে প্রায়শই দেখা যায় নানা প্রজাতির বনফুল। তেমনি একটি বনফুল—যার নাম ‘বনজুঁই’। বসন্তে থোকায় থোকায় ফুটে থাকে এই সবুজ বহুপত্রী ফুল।

Manual2 Ad Code

অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে ওঠা গুল্ম জাতীয় পেরিনিয়াল উদ্ভিদ বনজুঁই। এই ফুল ভাটফুল, ভাটিফুল, ঘেঁটুফুল বা ঘণ্টাকর্ণ নামেই বেশি পরিচিত। প্রায় ৪০০ প্রজাতির বনজুঁই আছে যাদের আদি নিবাস এশিয়া মহাদেশের বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও শ্রীলংকা। গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে পতিত ভূমি, জঙ্গল, বড় রাস্তার কিনারা এদের আবাসস্থল। এই ফুলের সৌন্দর্য ও মিষ্টি গন্ধ মন মাতানো। ফুলটি নানা কারুকাজে ভরা—পুংকেশর, পাপড়ি, পাতা ও কাণ্ডকে প্রকৃতি নিখুঁতভাবে সাজিয়েছে। ফুলের মাঝখানের পুংকেশরই এই ফুলের প্রধান সৌন্দর্য। এর মনোমুগ্ধকর সৌরভে মোহিত হয় প্রজাপতি আর মৌমাছি। ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ার পর লালচে বৃতির মাঝখানে সবুজ ও বেগুনি বীজ দেখতে একেবারে নাকফুলের মতো। মনে হয় যেন কারুকাজ খচিত লালচে পাথরের মাঝে সবুজ অথবা গাঢ় বেগুনি চকচকে এক হিরে বসিয়ে রেখেছে।

 

Manual3 Ad Code

বনজুঁই সৌন্দর্যবর্ধন ছাড়াও নানা গুণে গুণান্বিত। এই উদ্ভিদ ভেষজ হিসেবেও ব্যবহার হয়। ম্যালেরিয়া, চর্মরোগ ও পোকা-মাকড়ের কামড়ে খুবই উপকারী। এর কচি পাতার রস টনিক হিসেবে কাজ করে। পাতায় প্রাপ্ত ক্যামিকেল কৃমিনাশক, জ্বর উপশমকারী ও এক্সপেকটোরেন্ট হিসেবেও কাজ করে থাকে। মূল থেকে প্রাপ্ত ক্যামিকেল এজমা, টিউমার ও চর্মরোগের ওষুধ।

 

Manual8 Ad Code

১৭৫৩ সালে কার্ল লিনিয়াস তাঁর ‘স্পেসিস প­ান্টেরাম’ গ্রন্থে এই উদ্ভিদের নাম উল্লেখ করেন ‘জেনাস’ নামে। যার অর্থ ‘ভাগ্য উদ্ভিদ’। এদের বৃতি সাদার পরিবর্তে প্রথমে সবুজ ও পরে পরিপক্ব অবস্থায় লালচে রং ধারণ করে। এই লালচে রঙের কারণেই এদের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটে অর্থাত্ অল্প সময়ের মধ্যে ফুলের বৃতিতে যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তার জন্য পলিনেটর আকৃষ্ট হয় ও পরাগায়ন ঘটায়, কারো কারো মতে এজন্যই কার্ল লিনিয়াস এরকম নামকরণ করেন।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code