বাংলাদেশের কতিপয় প্রবাসীর মদদে মার্কিন রাজনীতিকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন : পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মোমেন

লেখক:
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

Manual7 Ad Code

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারনা রোধে প্রবাসীদের করনীয় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের কতিপয় প্রবাসীর মদদে মার্কিন রাজনীতিকরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। যে অপবাদে স্যাংশন দেয়া হয়েছে, তা ন্যায়-নিষ্ঠ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ ৫০ বছরের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। প্রবাসীরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে মার্কিন নীতি-নির্ধারকদের কাছে বাংলাদেশের সত্যিকারের তথ্য সবিস্তারে উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে স্যাংশনের ব্যাপারটি তারা উঠিয়ে নেবেন। এ ব্যাপারে দেশপ্রেমিক প্রতিটি প্রবাসীকে সরব হতে হবে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় মুনলাইট গ্রীলে ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সংসদের প্রেসিডেন্ট ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনকে এ ব্যাপারে সভা-সেমিনার আয়োজনের আহবানও জানিয়েছেন।

Manual8 Ad Code

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়ার সভাপতিত্বে এবং ডাইরেক্টর কমিউনিকেশন্স মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বাংলাদেশী-আমেরিকান মেয়র (মিলবোর্ন সিটি, পেনসিলভেনিয়া) মাহবুবুল আলম তৈয়ব, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মনোয়ার হোসেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মিলবোর্ন সিটির কাউন্সিলম্যান মোশারফ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার ভূইয়া, আমেরিকা-বাংলাদেশ এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাজী শফিকুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন, মহিউদ্দিন দেওয়ান ও আব্দুর রহিম বাদশা, মানব কল্যাণ সম্পাদক মিসবাহ আহমেদ, কৃষি সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মোর্শেদা জামান, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ জলিল, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন আজমল, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদার, বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি নজমুল চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হাজী জাফর উল্ল¬াহ, যুগ্ম সম্পাদক আশরাব আলী খান লিটন, এ টি এম রানা, নাজিম উদ্দিন, আবুল কাশেম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনকে ছাড়াও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় নিউইয়র্কে নবাগত কন্সাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম, মার্কিন মুল¬ুকে প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে মাহবুবুল আলম তৈয়ব এবং কাউন্সিলম্যান মোশারফ হোসেনকে।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিশনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আরও বলেন, পৃথিবীর ১১০টি দেশের ৪৮ হাজার মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়েছেন। আমাদের প্রতিবেশী শ্রীলংকা, সেখানকার লোকসংখ্যা হচ্ছে মাত্র ২১ মিলিয়ন অর্থাৎ ২ কোটি ১০ লাখ। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার লোক নিখোঁজ হয়েছেন। ইরাকের লোকসংখ্যা ৪ কোটি। সেখানেও সাড়ে ১৬ হাজার মানুষ জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়েছেন। আলজেরিয়ার জনসংখ্যা ৪ কোটি ৩৮ লাখ। সে দেশেও ৩/৪ হাজার লোক নিখোঁজ। ড. মোমেন বলেন, আমাদের দেশের লোক সংখ্যা হচ্ছে ১৬৫ মিলিয়ন তথা ১৬ কোটি ৫০ লাখের বেশী। তারমধ্যে জোরপূর্বক নিখোঁজের সংখ্যা হচ্ছে ৭৬ জন। এই ৭৬ জনের মধ্যে পাওয়া গেছে ৭ জনকে অর্থাৎ নিখোঁজের সংখ্যা ৬৯।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ওইসব রাষ্ট্রের ওপর কোন স্যাংশন হয় না। স্যাংশন হয় বাংলাদেশের ওপর। কোথায় সাড়ে ১৬ হাজার, কোথায় সাড়ে ৬ হাজার, কোথাও ৪ হাজার নিখোঁজ, অথচ ওদের ওপর স্যাংশন হয় না। স্যাংশন হয় ৬৯ জন নিখোঁজের জন্য বাংলাদেশের ওপর। এটা কী ফেয়ার? এটা কী ন্যায় বিচার? ন্যায়-নিষ্ঠতা? এমন কাজ হয়েছে কিছু লোক ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে বারবার কানপড়া দেয়ায়। তিনি অপশক্তির সব ধরণের অপতৎপরতা রুখে দিতে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের সঠিক তথ্য সংশি¬ষ্ট সকলকে বারবার জানানো। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমরা যদি সঠিক তথ্য জানাতে পারি, তাহলে আমেরিকার জনগণ তা বিবেচনায় নেবেন। এদেশের মানুষেরা খুবই ফেয়ার। আমেরিকাতে অনেক বিবেকবান মানুষ রয়েছেন যারা কঠোর পরিশ্রমী বাংলাদেশীদের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে চিনেন। আশা করছি তারা বাংলাদেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে কসুর করবেন না।
ড. মোমেন বাংলাদেশ আজকের অবস্থায় উন্নীত হওয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের অসাধারণ গুণ বলে অভিহিত করে বলেন, তার বিচক্ষণ নেতৃত্বেই আমরা জিরো থেকে হিরো হয়েছি।
মাহবুবুল আলম তৈয়ব বলেন, এক সময় বাংলাদেশকে তুচ্ছ্ব-তাচ্ছ্বিল্য করা হয়েছে। এখন আর সে দিন নেই। বাংলাদেশ অনেক ওপরে উঠেছে। যা গর্ব করার মত।
বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মো. আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের দিক-নির্দেশনায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দেশের কল্যাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে গত ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ‘গুরুতর’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বর্তমান পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমদসহ বাহিনীর ছয় কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিক্রিয়ায় ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারকে তলব করে সরকারের অবস্থান জানিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ওই নিষেধাজ্ঞা তুলতে ইতোমধ্যে একটি লবিস্ট সংস্থাকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code