বাদাম চাষে বদলাবে চরের জীবন-জীবিকা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual6 Ad Code

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) :
যেদিকে চোখ যায়, শুধু সবুজ আর সবুজে ভরা বাদাম ক্ষেত। নদীর বুকে জেগে উঠা চরগুলো যেন সেজেছে নতুন সাজে। সবুজে ভরা বাদামের ক্ষেত এখন কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। ব্রহ্মপূত্র ও তিস্তা নদীর বিস্তৃর্ণ চর জুড়ে এখন বাদামের সবুজ ক্ষেত ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলার উলিপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদী বেষ্টিত বজরা, গুনাইগাছ, থেতরাই, দলদলিয়া ও ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত হাতিয়া, বুড়াবুড়ি, বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা ইউনিয়নে পরিত্যক্ত উঁচু ও বালিযুক্ত চরের ৪’শ ১১ হেক্টর জমি চাষাবাদ করে ৮’শ২২ মেট্রিক টন বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যায় বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তিস্তা নদীর চরে গিয়ে দেখা যায় ,চরগুলো যেন নতুন করে সেজেছে। শুধু মাঠের পর মাঠ বাদামের সবুজ ক্ষেত। জেগে উঠা চরের বালুতেই জেগে উঠা সবুজ বাদাম ক্ষেতকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। এসময় কথা হয়, উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের কিশোরপুর গ্রামের কৃষক মাহবুবুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, প্রায় ৪৫ হজারা টাকা খরচ করে তিস্তা নদীতে জেগে উঠা চরের দেড় একর জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। আর ২০/২৫ দিনের মধ্যে বাদাম ঘরে তুলতে পারবেন। তিনি আরো জানান, বাদাম ক্ষেত দেখে মনে হচ্ছে লাভবান হবে।
এসময় বাদাম চাষের সাথে জড়িত অনেক কৃষক বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঢাকা-১ জাতের বাদামে রোগ-বালাই কম, তাই ফলনও ভাল হবে। বিঘা প্রতি ৮ থেকে ৯ মণ বাদাম উৎপাদন হলে কৃষকরা সবাই লাভবান হবেন। এছাড়া চলতি বছর চর গুলোতে সূর্য্যমূখি, সরিষা, তিল, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন তৈল জাতীয় শষ্য চাষাবাদ করে কৃষকরা লাভবান হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, নদ-নদীর চরাঞ্চল গুলোতে বাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code