বিদেশি কর্মী নিয়োগে ‘নৈরাজ্য’ দূর করার আহ্বান টিআইবির

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

বিদেশি কর্মীদের সম্পূর্ণ আয় নিজ দেশে পাঠানোর সুযোগকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে সুশাসন নিশ্চিত করতে ও অর্থ পাচার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত কৌশলগত নীতিমালা প্রণয়ন ও যথাযথ বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) টিআইবি থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

Manual4 Ad Code

গত  ৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত টিআইবির  ‘বাংলাদেশে বিদেশিদের কর্মসংস্থান: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনের সূত্রধরে বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন খাতে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের বড় অংশই দেশে অবৈধভাবে কাজ করেন। তাদের  অর্জিত আয় হুন্ডির মাধ্যমে নিজ দেশে পাঠান। এর ন্যূনতম বার্ষিক পরিমাণ ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।  এতে  ফাঁকির কারণে বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সুযোগ নিয়ে বিদেশি কর্মীরা যদি তাদের অর্জিত আয় বৈধ পথে নিজ দেশে পাঠান, তাহলেই  এই সিদ্ধান্তের ইতিবাচক ফল আশা করা যেতে পারে। অন্যথায়, অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রজ্ঞাপনও  কাগুজে সিদ্ধান্ত হিসেবে পরিগণিত হবে।

বিবৃতি আরও বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের একাংশের অসাধু ও দুর্নীতিপরায়ণ মনোবৃত্তি ও যথাযথ তদারকির ঘাটতি থাকায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ, তাদের এ দেশে অবস্থান নিয়ে এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। এতে আরও বলা হয়েছে, অধিকাংশ বিদেশি নাগরিকের বাংলাদেশে আসা, অবস্থান ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন না। বাংলাদেশে আগমনের মূল উদ্দেশ্য কর্মসংস্থান হলেও, এ ক্ষেত্রে তারা সাধারণত ট্যুরিস্ট ভিসা বা ভিসা অন অ্যারাইভাল অথবা বিজনেস ভিসায় এসে থাকেন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় নিয়োগদাতাদের যোগশাজসে কর্মের অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগ দেন, যাদের কোনো হদিস সরকারিভাবে রাখা হয় না। আবার সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মাসিক বেতন সীমা হালনাগাদ না করায়, কর ফাঁকি দিতে এসব বিদেশিদের সঠিক বেতনও ঘোষণা করে না নিয়োগদাতারা। এর ফলে একদিকে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে এক শ্রেণির অসাধু চক্র বিদ্যমান পদ্ধতিকে বিদেশে অর্থ পাচার করার সুর্বণ সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে।’

Manual5 Ad Code

এতে  বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বিদেশি কর্মী নিয়োগে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি সমন্বিত কৌশলগত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। একইসঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের সব তথ্য কার্যকর উপায়ে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সুবিধার্থে সব তাদের আসা-যাওয়ার পথে সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করতে হবে। বিদেশি কর্মীদের মাসিক বেতনসীমা হালনাগাদ করা ও বিদেশি কর্মীদের তথ্য অনুসন্ধানে বিভিন্ন অফিস ও কারখানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো ও পুলিশের বিশেষ শাখার সমন্বয়ে নিয়মিত যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযান চালাতে হবে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code