বিদেশি গাড়িতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : এবার বিদেশ থেকে আমদানি করা গাড়ির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২ এপ্রিল থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সব গাড়ির উপর এই শুল্ক আরোপ করা হবে। গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপ করার বিষয়টি স্থায়ী হবে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই নীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে বলেও দাবি ট্রাম্পের। সেই সঙ্গে তার আশা, গাড়ির উপর শুল্ক আরোপ করায় রাজস্ব হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয় হবে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়নি এমন সমস্ত গাড়ির পর ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক চাপানো হবে। ২.৫ শতাংশ থেকে শুরু হয়েছিল। তবে এবার তা একলাফে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক বৃদ্ধি হবে বলে দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি বলেন, ‘এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এতটাই হবে, যা কল্পনাতীত। কিন্তু কেউ যদি এ দেশেই গাড়ি নির্মাণ করেন, তাহলে কোনও শুল্ক দিতে লাগবে না।’

Manual4 Ad Code

ফেব্রুয়ারি মাসেই ট্রাম্প আমদানি করা যানবাহনের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। নতুন এই শুল্ক আরোপ করা হলে আমেরিকায় আমদানি করা গাড়ির দাম গড়ে ১২,৫০০ ডলার বাড়বে বলেও সূত্রের খবর। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, আমদানি হওয়া গাড়িতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত পাকাপাকি ভাবেই থাকছে।

এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সে দেশের অর্থনীতিবিদ এবং শিল্পপতিদের একাংশ। তাদের বক্তব্য, হঠাৎ করে দেশে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় না। তাছাড়া অতিরিক্ত শুল্ক চাপলে গাড়ি কেনা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে বেরিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার বদলে হ্রাস পেতে পারে।

এ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি তথা বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থা টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্কের কোনও ভূমিকা রয়েছে কিনা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ট্রাম্প অবশ্য জল্পনা খারিজ করে বলেছেন, ‘মাস্ক গাড়িতে শুল্ক আরোপের পরামর্শ দেননি। উনি আমার কাছে কোনও সুবিধাও চাননি।’

Manual4 Ad Code

রাজস্ব আয়: হোয়াইট হাউস আশা করছে বিদেশি গাড়ির উপর শুল্ক আরোপের ফলে বার্ষিক প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার আয় হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এই রাজস্ব বাজেটের ঘাটতি কমাতে এবং মার্কিন শিল্পগুলিকে সহায়তা করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে বর্ধিত ব্যয় চাহিদা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

গাড়ির দাম বেশি: বিদেশী গাড়ি নির্মাতারা যদি পুরো শুল্কের টাকা ক্রেতাদের উপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে আমদানি করা যানবাহনের দাম প্রায় ১২,৫০০ ডলার বেড়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যে নতুন গাড়ির গড় দাম ইতিমধ্যেই ৪৯,০০০ ডলারের কাছাকাছি।আরও দাম বাড়লে মধ্যবিত্তদের কাছে নতুন গাড়ি কেনার দুঃসাধ্য হয়ে যেতে পারে।

স্থানান্তর: ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে শুল্ক আরোপের ফলে গাড়ি নির্মাতারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থানান্তর করতে উৎসাহিত হবে, যার ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ট্রাম্প তার নীতিগুলি কার্যকর হওয়ার প্রমাণ হিসেবে লুইসিয়ানায় হুন্ডাইয়ের ৫.৮ বিলিয়ন ডলারের ইস্পাত কারখানার কথা উল্লেখ করেছেন।

দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা: হোয়াইট হাউস যুক্তি দিচ্ছে যে অতিরিক্ত শুল্ক গাড়ি শিল্পকে শক্তিশালী করবে। স্বল্পমেয়াদে, গাড়ি নির্মাতা এবং ভোক্তারা বড় আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন এবং কোনও সুবিধা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই চাকরি হারাতে পারেন।

গাড়ি নির্মাতাদের উপর প্রভাব: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিদেশী গাড়ি নির্মাতারা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর নির্ভর করে, যার অনেক যন্ত্রাংশ মেক্সিকো, কানাডা এবং এশিয়ায় তৈরি হয়। গাড়ি নির্মাতাদের এখন অনেক খরচ বহন করতে হবে, যা গ্রাহকদের উপর চাপাতে হবে, অথবা উৎপাদন পুনর্গঠন করতে হবে, যার জন্য বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে।

বাজারের প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্পের এই ঘোষণার প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করে দিয়েছে। জেনারেল মোটরস, স্টেল্লান্টিস-সহ বিভিন্ন গাড়ি উৎপাদক সংস্থার শেয়ার ৩ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ কমেছে। একই হারে শেয়ার কমেছে হুন্ডাই, নিসান-সহ জাপানের একাধিক গাড়ি উৎপাদক সংস্থার। ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে জাপানে গাড়ির উৎপাদন এবং রপ্তানিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা। কারণ বছরে প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলারের গাড়ি জাপান থেকে আমেরিকায় রপ্তানি করা হয়।

বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া: কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-র নেতারা ট্রাম্পের এই ঘোষণার সমালোচনা করেছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কানাডিয়ান ব্যবসাগুলিকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইইউ গ্রাহক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষতির বিষয়ে সতর্ক করেছে।

প্রতিশোধের ঝুঁকি: এই শুল্ক বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে। অন্যান্য দেশগুলি পাল্টা ব্যবস্থা আরোপ করবে। ইইউ ইতিমধ্যেই মার্কিন মদের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছে, এবং ট্রাম্প ইউরোপীয় অ্যালকোহলের উপর সম্ভাব্য ২০০ শতাংশ কর আরোপের মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

Manual5 Ad Code

কর পরিকল্পনা: গাড়ির বহু মূল্যের ক্ষতিপূরণ দিতে ট্রাম্প একটি নতুন কর ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছেন। তিনি ক্রেতাদের তাদের ফেডারেল আয়কর থেকে গাড়ি ঋণের সুদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তবে শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি যানবাহনের জন্য।

Manual8 Ad Code

বাণিজ্যের উপর প্রভাব: অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেন, হঠাৎ করে দেশে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় না। তা ছাড়া অতিরিক্ত শুল্ক চাপলে গাড়ি কেনা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে বেরিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার বদলে হ্রাস পেতে পারে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code