বিরোধী দলের কাছে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা চাইলেন অর্থমন্ত্রী

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ বিদেশে অর্থ পাচার অব্যাহত রয়েছে দাবি করে তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা। তারা ঋণখেলাপিদের সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং পাচারকারীদের চিহ্নিত করতে দ্রুত ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল টাকা পাচারকারীদের তালিকা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

শনিবার জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংকার সাক্ষ্য বহি বিল-২০২১’ পাশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। বিলের ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় হয়।

এ সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা অভিযোগ করেন, বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ ছাড়িয়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি। এসব বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানতে চান তারা।জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অনেকভাবে বলেছেন দেশ থেকে টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। আমি আপনাদের বলেছি, যারা পাচার করে তাদের তালিকা আমাকে দেন। আমি তো পাচার করি না। আমি বিশ্বাস করি আপনারাও পাচার করেন না।

সুতরাং পাচার কে করে, আমি জানব কেমন করে, যদি আপনারা না দেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কথা বললেও মাইক বন্ধ থাকায় সেই বক্তব্য শোনা যায়নি। তবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা বলেন। আপনারা লিস্ট দেন পাচারকারীদের। বারবার আমি বলেছি, আমি জানি না। আমাকে জানিয়ে দিন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, অর্থনীতি এখন একটি চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করছে। সারাবিশ্বের অর্থনীতি তিন শতাংশ কনট্র্যাকশন হয়েছে। কিন্তু দেশে এটি হয়নি। বলা হচ্ছে, ২০৩৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিমাণ হবে সারাবিশ্বে ২৫তম।

Manual7 Ad Code

অথচ আপনারা যেভাবে বলেন মনে হয়, দেশে কোনো অর্থনীতি নেই, ব্যাংকিং খাত নেই, দেশে কিছুই নেই। কিছুই না থাকলে আমরা উন্নতি করছি কীভাবে? এগুলো বাদ দিয়ে আমাদের প্রবৃদ্ধি আসছে কীভাবে?

Manual2 Ad Code

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকের সংখ্যা বেড়েছে, গ্রাহক বেড়েছে, আমানতও বেড়েছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেশ সৃষ্টির পর থেকে সবচেয়ে কম এখন। তিনি আরও বলেন, একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালক হলো সেদেশের ব্যাংকিং সেক্টর।

সারাবিশ্বের অর্থনীতি যখন টালমাটাল অবস্থা, সবাই কিন্তু বলছেন আমরা ভালো করছি। আপনার কাছে যদি কোনো প্রমাণ থাকে যে, আমরা তাদের চেয়ে অর্থনৈতিকভাবে পেছনে আছি, তাহলে ইন দ্যাট কেস ইউ কাম টু মি, আই উইল গেট ইউ টু দ্য সল্যুশন।

এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যাংক কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকার বেশি। কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে রাজনীতিবিদ, আমলাসহ অনেকে টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ আছে।

এই অভিযোগে আমলা-রাজনীতিবিদদের বদনাম হয়। টাকা পাচার হয় কিনা, হলে কারা করে এটা বের করতে দ্রুত একটি ব্যাংক কমিশন গঠন করতে হবে।

একই আলোচনায় বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, অর্থমন্ত্রীকে আমরা অনেক প্রশ্ন করি, তিনি উত্তর দেন না। ঠাণ্ডা মাথায় এড়িয়ে যান। ই-কমার্সের নামে লুটপাট হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথর্মন্ত্রী বলছেন, দায় তার না। বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন, দায় তার না। তাহলে কে দায় নেবে? এটা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।

Manual3 Ad Code

বিএনপির আরেক সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, রাঘববোয়ালরা হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে মেরে দিয়ে আয়েশি জীবনযাপন করছে। অথচ গরিব মানুষ ঋণ পায় না। অল্প টাকার ঋণখেলাপির জন্য কৃষকদের জেলে যেতে হয়।

কিন্তু হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। জাতীয় পার্টির ডা. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ব্যাংকে অনিয়ম-দুর্নীতি, পাচার হলে কত টাকা পাচার হয়েছে এসব বিষয়ে জানানো উচিত। এজন্য তিনিও একটি ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবি জানান।

বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি (অর্থমন্ত্রী) কথা কম বলেন, বললে ভুল হবে। ওনি কথা বলেনই না প্রায়। কাগজে-কালমে মন্দ ঋণ এক লাক কোটি টাকার মতো। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখা ঋণ হিসাব করলে সেটা আসলে মোট সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদ, আমলারা টাকা পাচার করেন, এমন শোনা যায়। কারা কত পাচার করে অর্থমন্ত্রী যদি পরিষ্কার চিত্র দেন তাহলে রাজনীতিবিদ ও সৎ আমলারা মুক্ত থাকতে পারেন।

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে জাতীয় পার্টির রওশন আরা মান্নান বলেন, কথা কম বলা ভালো। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে কথা বলতে হয়। অর্থমন্ত্রী যদি মাঝে মধ্যে খুলে বলেন ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন তা হলে মানুষ জানতে পারে। না হলে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code