বুয়েট শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত অনুকরণীয়

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual2 Ad Code

সম্পাদকীয়: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার একটি প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় কাজ করেছেন। তারা এদিন দুপুরে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে সম্মিলিত কণ্ঠে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতির বিরুদ্ধে শপথগ্রহণ করেছেন।

Manual8 Ad Code

শপথে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, ‘আমরা প্রতিজ্ঞা করছি যে, এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকল প্রকার সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সম্মিলিতভাবে রুখে দেব। নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার আমরা সমূলে উৎখাত করব।’ শিক্ষার্থীদের এ সিদ্ধান্তকে আমরা এ কারণে প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় বলছি যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল যে কাজ অর্থাৎ শিক্ষা, তা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাহত হয়। কখনো কখনো এসব কর্মকাণ্ড সমালোচনারও জন্ম দেয়।

অতীতে তেমন ঘটনা ঘটেছে। এটা ঠিক, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত ঐতিহাসিক যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার পেছনে ছাত্রসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু এরপর অনেক ঘটনাই দলীয় ছাত্র রাজনীতিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এমনকি ছাত্র রাজনীতির নানা কর্মকাণ্ড সমালোচিত হলে ২০০৯ সালের এপ্রিলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

Manual4 Ad Code

ছাত্র রাজনীতি যখন কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন সে রাজনীতির বৈশিষ্ট্য আর থাকে না। অতীতের ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন ও কর্মকাণ্ড ছিল দেশ ও জাতির স্বার্থে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা দলীয় লেজুড়বৃত্তির ছাত্র রাজনীতিতে পর্যবসিত হয়ে নানা সহিংসতার জন্ম দেয়। ২০০২ সালে সাবিকুন্নাহার সনি, ২০১৩ সালে আরিফ রায়হান দীপ থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের অক্টোবরে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি উঠলেও বাস্তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর পেছনে বুয়েট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বারবার।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code