ভোট দিতে বাধ্য করাও মানবাধিকার লঙ্ঘন: কামাল উদ্দিন

লেখক:
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

নির্বাচনে ভোট দিতে বাধা দেওয়া এবং বাধ্য করা- দুটোকেই মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ।

আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা জাতীয় নির্বাচনের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাংবিধানিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ প্রত্যেকের অধিকার। নির্বাচন করা এবং নির্বাচিত হওয়া দেশের নাগরিকের অধিকার। সেই অধিকারটি যাতে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায় এবং একটি সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন হয় সে বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা আজকে এসেছিলাম। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সাথে আমাদের সুন্দর মতবিনিময় হয়েছে। সেখানে আমরা মূলত নির্বাচন পূর্বকালীন সময়ের আচরণ এবং কার্যক্রম, নির্বাচন সময়কার আচরণ এবং নির্বাচন পরবর্তীকালের আচরণের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।’

Manual6 Ad Code

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক সময় দেখেছি আচরণবিধি ভঙ্গ করে অনেক প্রার্থী এবং কর্মীরা বিভিন্ন রকম উত্তেজনা সৃষ্টি করে মানুষের আস্থা অর্জন ব্যাহত হয়। বিশেষ করে যারা সংখ্যালঘু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য অথবা পঙ্গু বা অন্যান্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তাদের ক্ষেত্রে অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। সেগুলো যাতে না হয় এবং প্রত্যেক প্রার্থী ও ভোটাররা যাতে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আমরা বলেছি।’

Manual4 Ad Code

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জাতীয় যথাযথ ভূমিকা পালন করে সে বিষয়টি আমরা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। অতীতের অভিজ্ঞতায় নির্বাচন পরবর্তী সময় অনেক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছিল। বিশেষত ২০০১ সালে নির্বাচনের পরে আমরা যে বিশাল সহিংসতা দেখেছি। এটা নিয়ে আমরা সবসময় অনেক উদ্বিগ্ন থাকি সবসময়। ওই সময় অনেকে মৃত্যুবরণ করেছিল। অনেক নারীর সম্ভ্রম হরণ করা হয়েছিল। অনেকে কষ্টকর অবস্থায় পড়েছিল। এ ধরনের অবস্থা যাতে কখনোই না হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ কৌশল নির্ধারণ করে এ কাজটি সম্পাদন করবে সে বিষয়টা আমরা বলেছি।’

‘আমরা চাই, দেশে একটি সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে জনসংযোগ করে যাচ্ছি এবং করে যাব। আমি বিশ্বাস করি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।’

১৭টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না, তাহলে এটি কি নিরপেক্ষ থাকলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে নির্বাচন করতে হয়। নির্বাচনে কারা অংশগ্রহণ করবেন বা না করবেন.. প্রত্যেকেরই অধিকার রয়েছে নির্বাচন করা এবং নির্বাচিত হওয়া। এক্ষেত্রে কেউ যদি নির্বাচন না করতে চান তাহলে তিনি এ অধিকারটি রাখলেন না। তিনি আসলেন না। এক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার ব্যাপার বোধ হয় কোন সংঘাত সৃষ্টি করে না। কারণ কারও ইচ্ছা হল, তিনি নির্বাচন করলেন না, তিনি না-ই করতে পারেন। তবে আহ্বান জানানো একান্তই উচিত এবং আহ্বান জানানো হয়েছে বলেই আমরা জানি। আর এক্ষেত্রে যদি কেউ না-ই এসে থাকে তাহলে কি করা যাবে বলেন।

Manual3 Ad Code

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোন দায়িত্ব ছিল না বলে আমি মনে করি। কারণ কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসবে কি আসবে না এটা তাদের নিজের ব্যাপার। আর সরকারের ছিল কিনা এটা আপনারা সবাই জানেন। সরকার চেষ্টা করেছে কিনা সেটাও আপনারা জানেন। কতটুকু কি হয়েছে সেটা জানেন। এক্ষেত্রে যদি চেষ্টা করা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সাধুবাদ দিতে হবে। আর কেউ যদি না এসে থাকে এটা তার নিজস্ব অধিকার। তিনি ইচ্ছা করলে নাও আসতে পারেন।’

Manual7 Ad Code

ভোট দেওয়া এবং ভোটে অংশগ্রহণ করা একটি অধিকার। ভোট না দেওয়া এবং ভোটে অংশগ্রহণ না করাও একটা অধিকার। এক্ষেত্রে ভোট বর্জনে হস্তক্ষেপ কোন রাজনৈতিক দল করতে পারে কি না, করলে এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কোন কোন দেশে বাধ্যতামূলকভাবে ভোট দিতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সে ধরনের কোনো নিয়ম নেই। সে কারণে আমি বলব ভোট যদি কেউ না দিতে চায় তাহলে সেটা তার ইচ্ছা। এটা সত্য কেউ যদি ভোট দিতে চায় তাকে বাধা প্রদান করা অনুচিত। এটা আইনের বরখেলাপ। কেউ যদি ভোট দিতে না চায় তাকে যদি জোর করে নিয়ে যাওয়া হয় সেটাও লঙ্ঘন। আমরা এ বিষয়ে নজর রাখছি।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code