মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৎপরতা শুরু

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৩৬ minutes ago

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ময়কর পরাজয় হোয়াইট হাউসে তার উত্তরসূরি নির্বাচনের লড়াইকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে।

রিপাবলিকানদের এ শোচনীয় পরাজয় বিশেষভাবে চাপে ফেলেছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে। এত দিন তিনি রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু এখন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কই তার জন্য বোঝা হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচন ডেমোক্র্যাট দলের উদীয়মান নেতাদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ। তার তরুণসুলভ ভাবমূর্তির সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তুলনা টানা হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

রিপাবলিকান শিবিরে অস্থিরতা

২০১৬ ও ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মেগা) জোট মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কার্যত ভেঙে পড়েছে। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য উত্তরসূরির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

Manual8 Ad Code

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ভ্যান্স এ পরাজয়ের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় তিনি দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক সমাবেশে অংশ নিয়ে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

তবে ৪২ বছর বয়সী উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভ্যান্স দ্রুতই এ নির্বাচনী বিপর্যয় থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত দীর্ঘ এক লেখায় তিনি ট্রাম্পের অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধকে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হিসেবে দায়ী করেন।

তবে ট্রাম্পের দায় থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করার এ চেষ্টা ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি নতুন নয়। ২০২৪ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও একই ধরনের সমস্যায় পড়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে নিজের পার্থক্য কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘এ মুহূর্তে তেমন কিছু মনে পড়ছে না।’

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের জেমস লিন্ডসে বলেন, ‘ভ্যান্সের জন্য দুঃসংবাদ হলো, দায়িত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্টদের খুব কমই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হতে দেখা যায়।’

Manual1 Ad Code

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

৫৫ বছর বয়সী রুবিও মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণায় তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় ছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কোনো কর্মকর্তার পক্ষেই ইরান যুদ্ধের দায় এড়িয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

অবশ্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিপর্যয় অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস সম্প্রতি বেশ সরব হয়েছেন। তিনি ২০২৪ সালে রিপাবলিকান মনোনয়ন পেতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের ঘটনাকে তিনি ‘রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্কাপাতের সমতুল্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, শুধু তাঁর নিজের অঙ্গরাজ্যেই রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের ঠেকাতে পেরেছে।

টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা নাকচ করেননি। ২০১৬ সালে তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে টেক্সাসে সিনেট ও গভর্নর—উভয় পদেই ডেমোক্র্যাটদের বিস্ময়কর জয় তাঁর সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ডেমোক্র্যাট শিবিরে আত্মবিশ্বাস

ডেমোক্র্যাট দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা বেশ দীর্ঘ। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর অবস্থান আরও জোরালো করেছে।

জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফের পুনর্নির্বাচিত হওয়া ২০২৮ সালে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা বাড়িয়েছে। ক্যামেরায় আকর্ষণীয় উপস্থিতি থাকা ৩৯ বছর বয়সী এ রাজনীতিক ট্রাম্পের সঙ্গে এক তরুণ কর্মীর সম্পর্ক নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেও ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন।

অসফ অবশ্য বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে তাঁর ‘শূন্য আগ্রহ’ রয়েছে। তবে জর্জিয়ায় তাঁর দ্রুত বিজয় নিশ্চিত হওয়া এবং বিজয়ী ভাষণ দলের ভেতরে তাঁর অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কমলা হ্যারিস (৬২) ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। তবে দলের অনেকেই এমন কাউকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান, যার আগে নির্বাচনে পরাজয়ের রেকর্ড নেই।

পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো (৫৩) মঙ্গলবারের নির্বাচনে ভালো ফল করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যটিতে তিনি বিপুল ব্যবধানে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিস তার রানিং মেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে শাপিরোর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার বিদায়ী গভর্নর গ্যাভিন নিউজম (৫৯) আরেকজন আলোচিত সম্ভাব্য প্রার্থী। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বারবার অবস্থান নেওয়া নিউজম সেপ্টেম্বরে এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি ‘আমরা যেভাবে চিনি, আর সেভাবে থাকবে না’।

তবে হ্যারিসের মতো নিউজমকেও ডেমোক্র্যাট দলের পুরোনো নেতৃত্বের অংশ হিসেবে দেখা হতে পারে। দলটি এখন উদীয়মান নেতাদের দিকে ঝুঁকছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন নিউইয়র্কের বামপন্থী কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। তিনি সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছিলেন। ২০১৬ ও ২০২৪ সালে নারী প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করা একটি দেশে একজন লাতিনা নারী জয়ী হতে পারবেন কি না, সে প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি।

এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন শিকাগোর সাবেক মেয়র রাহম ইমানুয়েল, ইলিনয়ের ধনকুবের গভর্নর জেবি প্রিৎজকার, কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার এবং অ্যারিজোনার সিনেটর ও সাবেক নভোচারী মার্ক কেলি।

Manual1 Ad Code

মঙ্গলবার তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রিটজকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য একটি বিস্তৃত কর্মসূচি তুলে ধরেছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code