মাদককে প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual2 Ad Code

সম্পাদকীয়: দেশে মাদকসেবনকারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বহুলপ্রচলিত
মাদকের পাশাপাশি দেশে আসছে নতুন নতুন প্রাণঘাতী ড্রাগ।

Manual1 Ad Code

নগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে এসব মাদক এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত দেড়
দশকে দেশে শনাক্ত ৩০ ধরনের মাদকের মধ্যে শুধু সাত পদের যে পরিমাণ মাদক
উদ্ধার হয়েছে, এর মূল্য প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ধার
হওয়া এসব মাদক দেশে ছড়িয়ে পড়া মোট মাদকের ২০-২৫ শতাংশের বেশি নয়।

Manual3 Ad Code

জানা যায়, বর্তমানে দেশে মাদকসেবনকারীর সংখ্যা ২ কোটির মতো। এর মধ্যে দেড়
কোটি নিয়মিত এবং ৫০ লাখ অনিয়মিত। মাদকসেবনকারীরা গড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০
কোটি টাকার মাদকসেবন করে, যা প্রতিবছরই বাড়ছে। এছাড়া মাদক লেনদেনের মাধ্যমে
হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে বিদেশে। কেনাবেচায় ডার্ক ওয়েব ও বিটকয়েনের
ব্যবহারও হচ্ছে। মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) তথ্য অনুযায়ী, এখন
মাদক ব্যবসায় জড়িত আছে ২০০ গডফাদার এবং ১ লাখ ৬৫ হাজার নেটওয়ার্ক। বছরে
লেনদেন হয় অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা। পরিতাপের বিষয়, পরিস্থিতির ভয়াবহ
অবনতি ঘটলেও মাদক নির্মূলে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। বরং মাদক প্রতিরোধে
কাজ করা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো বলছে, বর্তমানে মাদকের ট্রানজিট রুটে পরিণত
হয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মাদকচক্র বাংলাদেশকে এখন ‘সেফ রুট’ হিসাবে
ব্যবহার করছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গডফাদারসহ
উচ্চপর্যায়ের মাদক কারবারিরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ বলছে, তাদের
হাতে গ্রেফতার হওয়াদের অধিকাংশই মাদকের ক্যারিয়ার (বাহক)। এমনকি এলাকায়
পরিচিত ক্ষুদ্র মাদক কারবারিরা মাঝেমধ্যে গ্রেফতার হলেও অল্পদিনেই ছাড়া পেয়ে
যাচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের দায়ের করা মামলায়
৫২ শতাংশের বেশি আসামি খালাস পেয়েছে। কারাগার থেকে বের হয়ে আসামিরা ফের
একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। দেশে মাদক বিস্তারের এটিও অন্যতম কারণ। কাজেই এ

Manual4 Ad Code

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। শুধু বাহক নয়,
সমন্বিতভাবে গডফাদারদেরও ধরতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code