মানবাধিকার দিবসে দেশে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চক্রান্ত হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস সামনে রেখে দেশে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, মানবাধিকার একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কোনো কোনো দেশকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। দেশে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে অথচ বিবৃতিজীবীরা হারিয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোনো কোনো সন্ত্রাসীর পক্ষেও বিবৃতিজীবীদের কেউ কেউ সোচ্চার হয়। কিন্তু সেই সন্ত্রাসী যে এত মানুষ মারল, সেটি নিয়ে কোনো কথাবার্তা নেই। পৃথিবীতে কিছু মানবাধিকার সংগঠন আছে, যেগুলো মূলত মানবাধিকারের ব্যবসা করে।

Manual8 Ad Code

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব বিশ্ববেনিয়া মানবাধিকারের কথা বলে এবং বাংলাদেশেও যারা মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে, তারা ফিলিস্তিনে যে হাজার হাজার নারী ও শিশুকে হত্যা করা হলো—তা নিয়ে কোনো কথা বলে না। বিবৃতি দেয় না। অথচ তারা বরিশালে কোথায় একজন আরেকজনকে ঘুষি মারল, কোথায় কিছু মানুষ একজনকে ধাওয়া করল, সে জন্যও বিবৃতি দিয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি এবং সেটিকে আইনে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে ১৯৭৭ সালে নির্বিচার সেনা ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিনা বিচারে হত্যার মাধ্যমে। নামের মিল আছে, সে জন্যই ফাঁসিতেও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর ফাঁসির রায় হয়েছে, এমন ঘটনাও আছে।

মন্ত্রী বলেন, তারপর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে মানুষ পোড়ানোর মহোৎসব করা হয়েছে। এগুলো চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনে হামলা চালিয়ে একই হাসপাতালে একসঙ্গে ৫০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আরেকটি হাসপাতালে হামলা চালিয়ে হাসপাতালকে অকেজো করে দেওয়ার পর সেখানে আইসিইউতে থাকা সব মানুষ মারা গেছে। এ ধরনের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্ববেনিয়ারা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে। আবার ইসরায়েলি বাহিনী যাতে ভালোমতো বোমাবর্ষণ করতে পারে, সে জন্য সহায়তাও করছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এই মানবাধিকার লঙ্ঘনে আমরা চুপ থাকতে পারি না। আমি প্রথম থেকেই এর বিরুদ্ধে সোচ্চার আছি এবং থাকব। আমাদের সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীও সোচ্চার। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গিয়ে এর বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখেছেন। আরব রাষ্ট্রগুলোর সব রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বসে এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।’

Manual1 Ad Code

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কেউ হরতাল-অবরোধের ডাক দিতে পারে, সরকার পতনের ডাক দিতে পারে, সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখতে পারে, এটিই গণতান্ত্রিক ও বহুমাত্রিক সমাজের রীতি। কিন্তু ঘরে বসে সেই ডাক দিয়ে গাড়িতে পেট্রলবোমা মারা, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা—সেটি তো কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়। এগুলো একদিকে যেমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অন্যদিকে মানুষের অধিকার ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। আশা করি, সাংবাদিকেরা এগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলবেন, কলম ধরবেন।’

Manual3 Ad Code

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি তপন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কলিম সরওয়ার, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রুবেল খান, সহসভাপতি অনিন্দ্য টিটু, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক প্রমুখ।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code