

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসীদের তৃতীয় কোনো আফ্রিকান দেশে নির্বাসনের নীতি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। একই সঙ্গে অভিবাসন ঠেকাতে এই নীতি মানবিক দুর্ভোগকে কাজে লাগাচ্ছে।মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে। লিব্রেভিল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তার প্রশাসন ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করে। এসব চুক্তির আওতায় নিজ দেশে আইনগতভাবে বহিষ্কার করা সম্ভব নয়—এমন বিদেশিদের গ্রহণে দেশগুলো সম্মত হয়।এইচআরডব্লিউ-এর উদ্ধৃত মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৫০০ জনের বেশি অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নির্বাসনে পাঠিয়েছে।
‘ফরবিডেন স্টোরিজ’ কনসোর্টিয়ামের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে।এইচআরডব্লিউ বলেছে, এ নীতি ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে এবং অভিবাসন ঠেকাতে মানবিক দুর্ভোগকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।’মানবাধিকার সংস্থাটি একজন মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যও তুলে ধরেছে। নাম প্রকাশ না করা ওই কর্মকর্তা এক সিনেট শুনানিতে বলেন, ‘পালাউ বা ইসওয়াতিনির মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, প্রশাসন মানুষকে হুমকি দিতে পারে যে তাদের আক্ষরিক অর্থেই কোথাও মাঝখানে ফেলে দেওয়া হবে। মানুষকে ভয় দেখানোই উদ্দেশ্য।’এইচআরডব্লিউ জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার ছয়টি দেশে পাঠানো ২৪ জন তৃতীয় দেশের নাগরিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। দেশগুলো হলো—ক্যামেরুন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নিরক্ষীয় গিনি, ইসওয়াতিনি ও দক্ষিণ সুদান।
তারা জানায়, ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এমন ফ্লাইটে তাদের শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছিল। কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও তারা কিছু জানতেন না।২০২৬ সালের শুরুতে এএফপির এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, বহিষ্কৃতদের গ্রহণে আফ্রিকার দেশগুলোকে রাজি করাতে ওয়াশিংটন চাপ প্রয়োগ করেছে। এর মধ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি, ভিসা প্রদান স্থগিত করা এবং সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপের হুমকিও ছিল।বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ বুরুন্ডি চলতি মাসের শুরুতে জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃতদের গ্রহণে সম্মত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি এমন চুক্তি করা ১৫তম আফ্রিকান রাষ্ট্রে পরিণত হয়।