স্পোর্টস ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শোয়েব মালিকের আবির্ভাব ১৯৯৯ সালে। তখন জন্মই হয়নি শাহিন শাহ আফ্রিদির। অথচ দুই জনই এখন একে অপরের সতীর্থ। বয়স ৩৯ হলেও ঠিকই তাল মিলিয়ে খেলে যাচ্ছেন পরের একটি প্রজন্মের সঙ্গে। সেটিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতো বড় মঞ্চে।
এই তো কদিন আগেও তার অবসর নিয়ে কথা উঠেছে বেশ। কথার জবাব কথাতেই দিয়েছিলেন মালিক। গতকাল (৭ নভেম্বর) সেই জবাবটা ফের দিলেন ব্যাটের মাধ্যমে। পেশিশক্তির দুর্দান্ত প্রদর্শনী দেখিয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফটি (৫৪ রান) করেন মাত্র ১৮ বলেই। যা সাজিয়েছেন এক চার ও ৬ ছক্কায়। শুধু চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নয়, নিজের ক্যারিয়ার ও পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটি হাকিয়েছেন মালিক।
২২ বছরের ক্যারিয়ার হয়ে গেলেও এখনো ২২ বছরের তরুণের থেকে কম ফিট নন। তার বয়সে পৌছানোর আরও আগেই ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দেন অনেকেই। কিন্তু মালিকের গাড়ি এখনো চলছে। এর পেছনে রহস্যের কথা বলতে গিয়ে মালিক বলেন, ‘সত্যি বলতে, যখন আমি আয়না দেখি তখন নিজেকে ফিট হিসেবে দেখার আত্মমগ্নতা কাজ করে। সবচেয়ে বড় কথা আমি এখনো ক্রিকেট খেলা উপভোগ করছি এবং দিনশেষে তা দলেরও কাজে আসছে। আমার মনে হয় ফিট থাকার জন্য, প্রতিদিন অনুশীলন করতে হবে এবং সেটাই আমি করে যাচ্ছি।’
অথচ পাকিস্তানের বিশ্বকাপের স্কোয়াডে প্রথমে দলেই রাখা হয়নি মালিককে। যার ফলে হতাশায় মুষড়ে পড়েন তিনি। অবশ্য এর পেছনে যুক্তিও আছে। দুই মাস আগে শেষ হওয়া সিপিএলে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে তার পারফরম্যান্স ছিল ভয়ানক। ১০ ইনিংসে রান তুলেন মাত্র ৭.৪৪ গড়ে। তাই দলে রাখার প্রশ্নই উঠেনি। তবে শোহাইব মাকসুদের ইনজুরি কপাল খুলে দেয় মালিকের। কেননা ফিনিশিং রোলে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ঠান্ডা মাথার লোক খুজছিল পাকিস্তান। তারওপর আরব আমিরাতের উইকেটগুলো মন্থর ও নীচু প্রকৃতি। সেখানে মালিক ছাড়া আর কেই বা উপযুক্ত হতে পারে!
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা পাকিস্তান এবারের বিশ্বকাপে তিন বিভাগে দেখিয়েছে সমান দক্ষতা। তাই তো একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে সেমিফাইনালে তারা। সেখানে মালিক ছিলেন নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায়। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংসের যখন ৫ ওভার বাকি তখন সবাই ভেবেছিল আসিফ আলি নামবেন। নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে লোমহর্ষক ম্যাচ জিতিয়ে বিশ্বকাপে রীতিমতো তারকা বনে যান আসিফ। কিন্তু শারজাহর দর্শকদের হতাশ করে তার পরিবর্তে মালিককে পাঠায় পাকিস্তান। সেটা যে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না দিনশেষে সেটি প্রমাণ করেন মালিক। একই সঙ্গে জিতে নেন গ্যালারীতে থাকা দর্শকদের হৃদয়ও।
