

ডেস্ক নিউজ: ভাষা আল্লাহ তায়ালার অনন্য দান, শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। ভাষার মাধ্যমে মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করে। এই ভাষা মানুষের চিন্তা চর্চার বাহন, মানব পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। এতে জ্ঞানীদের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা রুম : ২১-২২)।
ভাষা শুধু মনের ভাব প্রকাশক আর চিন্তার বাহনই নয়, বরং একটি জাতির প্রতীক; জাতির অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। ভাষার পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে একটি জাতির জাতিসত্তা। সেই নির্দিষ্ট ভাষাকে অবলম্বন করে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বিশ্বের কাছে তাদের জাতীয় অস্তিত্ব তুলে ধরে। ভাষা সেই জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাহন; শিল্পকর্ম ও অগ্রগতির ধারক।
আরবি ভাষা
আরবি ভাষা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষা। সব ভাষাবিদদের দৃষ্টিতে এ ভাষা হচ্ছে চিরযৌবনা ভাষা। এর কোনো শৈশব বা বার্ধক্য নেই। এ ভাষায় কোরআনে কারিমের অবতরণ একে আরও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে। পৃথিবীতে প্রায় ২৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ আরবি ভাষায় কথা বলে। আরবের সবগুলো দেশসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের জাতীয় ও মাতৃভাষা হচ্ছে আরবি ভাষা। জাতিসংঘের দাপ্তরিক ছয়টি ভাষার মধ্যে অন্যতম চতুর্থ ভাষা হচ্ছে আরবি।
এক কথায়, আরবি আজ শুধু আরব জাতি ও মুসলিম জাতির ভাষা নয়; এ ভাষা আজ বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভাষায় পরিণত হয়েছে। আরবি ভাষার অনন্য বৈশিষ্ট হচ্ছে, তা সৃজনশীল। রয়েছে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারার সক্ষমতা। সভ্যতার যোগাযোগে এর ভূমিকা অনন্য। এ ভাষার রয়েছে শব্দ-বাক্যের বিশালতা; যা অনিঃশেষ বিবরণ দিতে থাকে, কিন্তু ফুরায় না।
কবি হাফেজ ইবরাহিমের ভাষায়, ‘আমি সমুদ্রের মতো বিশাল, আমার গভীরে রয়েছে অসংখ্য মণিমুক্তা। তারা ডুবুরিকে জিজ্ঞেস করেছে আমার এ সম্পদের বিষয়ে?’ কোরআনের ভাষা হওয়ার সুবাদে এ ভাষার কোনো মৃত্যু নেই। এর প্রবাহ অবিনাশী ও অবিনশ্বর। এর বিকাশধারা চির বহমান।