

হজরত মুসা (আ.)-এর কাহিনি আমরা কেবল মোজেজা বা মুখরোচক আশ্চর্য ঘটনা হিসাবেই শুনে থাকি। লাঠির আঘাতে লোহিত সাগরের পানি দুই দিকে সরে গিয়ে তলদেশ বের হয়ে আসা, তারপর বনি ইসরাইলের সাগরের ওপারে চলে যাওয়ার পর ফেরাউন বাহিনীর ডুবে মরা মুসা (আ.)-এর কাহিনি বলতে কেবল এ সবেই দৃষ্টি সীমাবদ্ধ রাখা হয়, অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হয় না।
অথচ এ কাহিনির প্রকৃত মর্ম হলো প্রত্যেক মানুষের জন্য জরুরি যে নিজ জাতিকে জুলুম ও জিল্লতি থেকে উদ্ধার করে উন্নতির পথ প্রদর্শন করা। বনি ইসরাইল নেহায়েত অসহায় অবস্থায় ছিল, শাসকশ্রেণি তাদের পুত্রসন্তানদের হত্যা করত আর কন্যাসন্তানদের জোরপূর্বক সেবাদাসী বানিয়ে রাখত।
মুসা (আ.)-এর কাহিনি সেসব গুণ অর্জনের শিক্ষা দেয় যার মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ জাতিকে উন্নত করার ক্ষমতায় বলিয়ান হতে সক্ষম।
আল্লাহতায়ালা হজরত মুসা (আ.)-কে নির্দেশ করেন, তুমি এবং তোমার ভাই হারুন, দুজনেই ফেরাউনের কাছে যাও। আল্লাহ বলেন-যাও তার কাছে এবং বলো, আমরা তোমার রবের প্রেরিত, বনি ইসরাইলকে আমাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য ছেড়ে দাও এবং তাদের কষ্ট দিও না। আমরা তোমার কাছে নিয়ে এসেছি তোমার রবের নিদর্শন এবং শান্তি তার জন্য যে সঠিক পথ অনুসরণ করে।
(সূরা ত-হা, আয়াত ৪৭)-এর সঙ্গে আল্লাহতায়ালা হজরত মুসা (আ.)-কে নির্দেশ দিলেন তার জাতিকে যেন অতীতের বিভিন্ন জাতির উত্থান-পতনের ইতিহাস শুনিয়ে সতর্ক করা হয়।