

ধর্ম: মুহাররম মাস দিয়ে আরবি বছর শুরু হয় এবং জিলহজে গিয়ে বছর পূর্ণ হয়। মুমিনের জন্য প্রত্যেক দিন সমান। তার চিন্তা থাকবে, আমার আজকের দিন গতকাল থেকে কীভাবে আরও বেশি ফলপ্রসূ হয়, সর্বদা সে ফিকির করা।
এ জন্য রাসুল (সা.) এক হাদিসে বলেন, প্রত্যেক মানুষ প্রত্যুষে উপনীত হয়। এরপর নিজেকে বিক্রি করে; হয়তো সে লাভবান হয় অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। (মুসনাদু আহমাদ: ২২৯০৮)
মুমিন প্রতিদিনই নিজেকে নিয়ে সওদা করে; হয়তো সে সফল হয় অথবা ব্যর্থ। এ জন্য মুমিনের নববর্ষ উদযাপন বলতে কিছু নেই। তার চিন্তা থাকবে, প্রত্যেক দিনের সওদায় সে কীভাবে সফল হবে।
মুহাররাম সম্মানিত চার মাসের একটি। আল্লাহ বলেন, আসমান-জমিন সৃষ্টিলগ্ন থেকে আল্লাহর কাছে মাস হলো ১২টি। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। (সুরা তাওবা: ৩৬)
বিদায় হজে রাসুল (সা.) সম্মানিত যে চার মাসের নাম উল্লেখ করেছেন। আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত; রাসুল (সা.) বলেন, আসমান-জমিন সৃষ্টিলগ্ন থেকে সময় তার মতো করে চলছে। বছর ১২ মাসে, তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস। তিনটি ধারাবাহিক—জুলকাদা, জিলহজ ও মুহাররাম। চতুর্থটি হলো রজব। (সহিহ বুখারি: ৩১৯৭)
ইসলামের প্রাথমিক যুগে এ চার মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ হারাম ছিল। কারণ, সম্মানিত মাসে রক্তপাত খারাপ দেখায়। যদিও পরে এ হুকুম রহিত হয়ে যায়। অর্থাৎ, মাস চারটি সম্মানিত বটে, তবে সে সময়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে সমস্যা নেই।
অনেক আলিমের মতে, সম্মানিত চার মাসের মধ্যে মুহাররাম সর্বশ্রেষ্ঠ। এ প্রসঙ্গে আবু জার রা. থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি রাসুলকে (সা.) জিজ্ঞেস করি, ‘আল্লাহর রাসুল, কোন বাহন ভালো? রাতের কোন অংশ ও কোন মাস সর্বোত্তম?’ রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে বাহনের দাম বেশি, সেটি বেশি কল্যাণকর; আর রাতের সর্বোত্তম অংশ হলো মধ্যভাগ; সর্বোত্তম মাস আল্লাহর মাস, যাকে তোমরা মুহাররাম বলে ডাকো।’ (আস-সুনানুল কুবরা: ৪২১৬, নাসায়ি)