মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে মিন্নির আপিল গ্রহণ অর্থদণ্ড স্থগিত

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও মোহাইমিনুল ইসলাম ওরফে সিফাতের খালাস চেয়ে আপিল গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্র্চুয়াল বেঞ্চ আপিল গ্রহণ করেন।

Manual1 Ad Code

মিন্নির আইনজীবী জেডআই খান পান্না, মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম ও নাজমুস সাকিব এবং সিফাতের পক্ষে আইনজীবী বদিউজ্জামান তরফদার ভার্চুয়ালি আদালতে সংযুক্ত ছিলেন। মাক্কিয়া ফাতেমা বলেন, হাইকোর্ট আপিল গ্রহণ করে বিচারিক আদালতের রায়ে ৫০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। এর আগে ১৩ অক্টোবর আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বী আকন, মো. হাসান ও মো. রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়ের আপিলও গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। ৪ অক্টোবর মিন্নিসহ মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ছয় আসামির ডেথ রেফারেন্সসহ (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন) মামলার নথি হাইকোর্টে আসে। রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপর চার আসামি হলেন- রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন (২১), রেজওয়ান আলী খান ওরফে টিকটক হৃদয় ও হাসান।

গত বছর ২৬ জুন ভরদুপুরে বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে। ওই ঘটনার একটি লোমহর্ষক ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই যুবক রামদা হাতে রিফাতকে একের পর এক আঘাত করে চলেছে। আর তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। বরগুনার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী মিন্নি হামলাকারী সবাইকে চিনতে না পারার কথা জানালেও নয়ন বণ্ড, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীর নাম বলেন।

Manual5 Ad Code

ওই ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী করা হয়। রিফাত হত্যার ঘটনা বরগুনা শহরে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ দৌরাত্ম্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। এসব কিশোর-তরুণের পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার খবর গণমাধ্যমে এলে হত্যার কারণ নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলতে থাকে। এর মধ্যেই ২ জুলাই মামলার প্রধান সন্দেহভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বণ্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

এদিকে মিন্নির শ্বশুরই পরে হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুললে আলোচনা নতুন মোড় নেয়। ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সেদিন রাতে তাকে রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এদিকে ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট মিন্নির জামিন মঞ্জুর করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় আসামির ফাঁসি দেন বিচারিক আদালত। বাকি চার আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ছয় আসামির সবাইকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

 

 

Manual8 Ad Code

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code