মেঘবিহীন খড় বৈশাখে নতুন বছরকে বরণ শ্রুতির অর্ধদিবস ব্যাপী বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উদযাপন

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual7 Ad Code

সোলেমান হোসেন চুন্নু সিলেট : পহেলা বৈশাখ বাঙালির সবচেয়ে বৃহত্তম সর্বজনীন উৎসব। সর্বস্তরের মানুষ হৃদয়ের টানে, বাঙালিয়ানার টানে মিলিত হয় এ উৎসবে। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রুতির উদ্যোগে প্রতিবারের মত বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। তপ্ত রোদের মধ্যেও গতকাল / আজ ১ বৈশাখ ১৪৩০,১৪ এপ্রিল ২০২৩, শুক্রবার ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে সূর্যোদয়ের পর পরেই শুরু হয় নতুন বছরকে আহ্বান। “ঝঞ্ঝা ঝড় মৃত্যু দূর্বিপাক ভয় যারা পায় তাদের ছায়া দূর মিলাক” এই উদাত্ত আহ্বান ধ্বনিত হয়। শ্রুতি সম্মাননা ১৪২৯ বাংলার গুণীজনের নাম প্রকাশ করা হয়। এবছর শ্রুতি সম্মাননা ১৪২৯ বাংলা পেয়েছেন বরেণ্য নজরুল সংগীত শিল্পী শারমিন সাথী ইসলাম ময়না ।

Manual3 Ad Code

অর্ধদিবস ব্যাপী শ্রুতির বর্ষবরণ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিনহা,উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক সংগঠক ভবতোষ বর্মণ রানা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শামসুল আলম সেলিম,সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি রজত কান্তি গুপ্ত, শ্রুতি সমন্বয় সুমন্ত গুপ্ত। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রুতির সদস্য সচিব সুকান্ত গুপ্ত।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন- তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। এই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন এবং তা কার্যকর হয় তাঁর সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬)। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

Manual5 Ad Code

বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত আকবরের সময় থেকেই। সে সময় বাংলার কৃষকরা চৈত্রমাসের শেষদিন পর্যন্ত জমিদার, তালুকদার এবং অন্যান্য ভূ-স্বামীর খাজনা পরিশোধ করত। পরদিন নববর্ষে ভূস্বামীরা তাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। এ উপলক্ষে তখন মেলা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। ক্রমান্বয়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে পহেলা বৈশাখ আনন্দময় ও উৎসবমুখী হয়ে ওঠে এবং বাংলা নববর্ষ শুভদিন হিসেবে পালিত হতে থাকে।

Manual6 Ad Code

সাংস্কৃতিক পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মান্যবর জেলা প্রশাসক জনাব মো মজিবর রহমান,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিরাজ কুমার জয়সওয়াল-সহকারী হাই কমিশনার-ভারতীয় হাই কমিশন সিলেট, গৌতম চক্রবর্তী সাধারণ সম্পাদক সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেট।

অর্ধদিবসব্যাপী আয়োজনে সমবেত সংগীত এবং নৃত্য পরিবেশন করে অনুষ্ঠান আয়োজক শ্রুতি-সিলেট, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ সিলেট,গীতবিতান-বাংলাদেশ, সংগীত নিকেতন, ছন্দনৃত্যালয়, সুরের ভূবন, নৃত্যসুধা,ললিত মঞ্জরী,পাঠশালা,নৃত্যশৈলী,নৃত্যরথ প্রমুখ। একক সংগীত পরিবেশন করেন পার্থ প্রদীপ মল্লিক,খোকন ফকির,ইকবাল সাই,লিংকন দাশ,সোনিয়া রায় প্রমুখ।অনুষ্ঠানে সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় দুপুর ১২ টায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ ইলিয়াছ শরীফ পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাসুদ রানা। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অর্ধদিবস ব্যাপী শ্রুতি বর্ষবরণ উৎসবের ষোড়শ তম আয়োজন সমাপ্ত হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code