যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়নি লিতুন জিরা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

বেনাপোল (যশোর ) :
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে মুখে ভর দিয়ে লিখে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী অদম্য মেধাবী লিতুন জিরা মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় মেধার সাক্ষর রাখে। সে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান করে।
প্রধান শিক্ষকের আচরণে বাকরুদ্ধ হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেয়া অদম্য মেধাবী লিতুন জিরা ও তার বাবা-মা। পিইসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত লিতুন জিরা যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ঠাঁই পেয়েও ভর্তি হয়নি। তাদের অভিযোগ, স্কুলের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলীর কারণেই স্কুলে ভর্তি হয়নি লিতুন জিরা।
লিতুন জিরার মা জাহানারা বেগম জানান, গত ২৩ ডিসেম্বর মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মেয়েকে নিয়ে উপরে উঠতে কষ্ট হবে বিধায় প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী স্যারকে নিচতলার একটি কক্ষে লিতুন জিরার পরীক্ষা নেয়ার অনুরোধ করেন। এতেই প্রধান শিক্ষক তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন। একপর্যায়ে লিতুন জিরা ও তার বাবার সামনে তাকে প্রধান শিক্ষক বলেন, বস্তা ভর্তি ধান নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পারলে মেয়েকে নিয়ে উপরে উঠতে সমস্যা কোথায়?
পঙ্গু মানুষকে কীভাবে স্কুলে আনা-নেয়া করবেন? আপনার পঙ্গু মেয়ের জন্য তো আলাদা ব্যবস্থা করতে পারবো না। অন্যখানে ভর্তি করান। প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে অঝোরে কাঁদেন লিতুন জিরা ও তার বাবা-মা। হতবাক হয়ে যান তারা।
লিতুন জিরা জানায়, প্রধান শিক্ষক স্যার যদি এমন আচরণ করেন তাহলে শারীরিক অসুবিধা দেখে তার সহপাঠীরা কীভাবে দেখবে? তার ধারণা ছিল প্রধান শিক্ষক সহানুভূতিশীল হবেন।
লিতুন জিরার বাবা হাবিবুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষকের খারাপ আচরণের কারণে লিতুন জিরাকে ভর্তি করতে কোনোভাবেই রাজি করাতে পারেননি।
যশোর জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মুনা আফরিন জানান, প্রধান শিক্ষকের এমন খারাপ আচরণের কথা লিতুন জিরার বাবা-মা তাকেও জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code