যুদ্ধ শুরু, কম্বোডিয়ার সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারি থাইল্যান্ডের

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : দিন দুয়েক ধরেই থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সৈন্যদের মধ্যে প্রাণঘাতী লড়াই চলছে। কেউ কাউকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নয়। কর্তৃপক্ষের মতে, চলমান লড়াইয়ের জন্যে দুই দেশের পৃথককারী সীমান্তের উভয় পাশে বসবাসকারী ১ লাখ ২০ হাজারেও বেশি মানুষ পালিয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে থাইল্যান্ডে ১৫ জন এবং কম্বোডিয়ায় একজন নিহত হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দুই প্রতিবেশীর মধ্যে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে। আজ উভয় দেশ ভারী কামান এবং রকেট হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের আশঙ্কার কারণেই কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে থাইল্যান্ড। গত মাস থেকেই থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছিল। অবশেষে তা যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই জানিয়েছেন, কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ, ইতিমধ্যেই ১,৩০,০০০ এরও বেশি মানুষকে উচ্ছেদ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান সীমান্ত বিরোধ বৃহস্পতিবার থেকে তীব্র লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

এই ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি জরুরি বৈঠক করার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায়, থাইল্যান্ডের একজন সামরিক সীমান্ত কমান্ডার কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী আটটি জেলায় জরুরী অবস্থা জারি করেছে। শুক্রবার সীমান্তের কম্বোডিয়ান দিক থেকে অবিরাম কামানের গোলাগুলির শব্দ শোনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে – ৭০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি – নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।

Manual3 Ad Code

থাইল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ইতিমধ্যেই সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে ১,৩৮,০০০ এরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী হওয়ায় আমরা আপোষ করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু এখন আমরা থাই সেনাবাহিনীকে জরুরি প্রয়োজনে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে, এটি যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। যদিও এটি আপাতত সংঘর্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।”

থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার (বৃহস্পতিবার ২১০০ GMT) ভোর ৪:০০ টার দিকে তিনটি এলাকায় লড়াই আবার শুরু হয়েছিল। কম্বোডিয়ান বাহিনী ভারী অস্ত্র, ফিল্ড আর্টিলারি এবং BM-২১ রকেট সিস্টেম নিক্ষেপ করেছিল এবং থাই সেনারা যথাযথ সহায়ক গুলি চালিয়ে সাড়া দেয়। তবে আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন যে, “লড়াই কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং থাইল্যান্ড আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। যদি কম্বোডিয়া কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে, দ্বিপাক্ষিকভাবে, এমনকী মালয়েশিয়ার মাধ্যমেও এই বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চায়, আমরা তা করতে প্রস্তুত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমাদের কোনও সাড়া পাইনি।”

Manual3 Ad Code

অন্যদিকে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত দাবি করেছেন যে, থাইল্যান্ড ইতিমধ্যেই একটি প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি থেকে সরে এসেছে। চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ি বলেছেন, হতাহতের ঘটনা গভীরভাবে বেদনাদায়ক। তবে কম্বোডিয়া তাদের হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনও মুখ বন্ধ রেখেছে, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, একটি হাসপাতালে চারজন আহত সৈন্য এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিককে চিকিৎসা নিতে দেখা গিয়েছে। সীমান্ত থেকে ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরে কম্বোডিয়ার সামরাওং শহরে গুলিবর্ষণের সময় স্থানীয় পরিবারগুলিকে তাদের সন্তান এবং জিনিসপত্র নিয়ে পালাতে দেখা গিয়েছে।

Manual5 Ad Code

প্রসঙ্গত, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার এই লড়াইটি দীর্ঘকাল ধরে চলমান। লক্ষ লক্ষ বিদেশী পর্যটকদের কাছে উভয় দেশই জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল। তবে উভয় দেশে সীমান্তবর্তী জায়গা ছাড়া নিয়েই বিবাদ। ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকায় কয়েক ডজন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে লড়াই এবং সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, যার ফলে কমপক্ষে ২৮ জন নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

Manual3 Ad Code

Desk: K

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code