

সম্পাদকীয়: দুই মাস ধরে গণমাধ্যমের প্রধান মনোযোগের কেন্দ্র ইউক্রেন যুদ্ধ, কিন্তু এর মধ্যেই একটি বিষয় অনেক বেশি উপেক্ষিত থেকে গেছে। সেটা হলো এপ্রিলের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া বন্দী বিনিময় করেছে। রাশিয়া তাদের কারাগারে তিন বছর ধরে বন্দী থাকা এক আমেরিকানকে (সাবেক নৌসেনা) মুক্তি দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির কারাগারে ১২ বছর ধরে বন্দী থাকা রাশিয়ার একজন বৈমানিককে (মাদক পাচারে অভিযুক্ত) মুক্তি দিয়েছে।
এই বন্দী বিনিময়ের ঘটনা কেন গুরুত্বপূর্ণ? কেননা, এটা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার বর্বর আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শীতল যুদ্ধের পর সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলমান ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সরাসরি জড়ায়নি, কিন্তু যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ অগ্রসর প্রযুক্তির সমরাস্ত্রের জোগান দিয়েছে। বুদ্ধি-পরামর্শ-গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ফলে ইউক্রেন খুব সফলতার সঙ্গে রাশিয়ার বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে ও পরাজিত করতে সক্ষম হচ্ছে। ন্যাটোকে শক্তিশালী করতে এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যুক্তরাষ্ট্র নানামুখী পদক্ষেপও নিয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যদিও যুদ্ধ শেষ হওয়া এবং মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোটাই এখন ইউক্রেনের মৌলিক স্বার্থ। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কাছে শান্তির অন্বেষণ শর্তসাপেক্ষ একটি বিষয়। ইউক্রেনের যে ভূখণ্ড রাশিয়া অধিকার করে নিয়েছে, সেটা ফেরত চান তিনি। তাঁর দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হোক, সেই নিশ্চয়তাও তিনি চান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইউক্রেনের যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও সেখানে রয়েছে। যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে রাশিয়ার যারা জড়িত, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার শর্তও তিনি দিয়েছেন। পক্ষান্তরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও তাঁর দেশে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। ইউক্রেনে তিনি যে ব্যয়বহুল আগ্রাসন চালিয়েছেন, সেটার একটা ফল বের করে আনা তাঁর জন্য প্রয়োজন। না হলে দেশের মধ্যে তাঁর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে। আপাতদৃষ্টিতে দুই দেশের এই বিরোধপূর্ণ অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে এনে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ খুবই সীমিত। এ থেকে ধারণা করা যায় যে চলমান সংঘাত শুধু কয়েক মাস নয়, কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এ বিষয়ই দৃশ্যপট হয়ে উঠতে পারে।