

ডেস্ক রিপোর্ট: কির্সতং পাহাড়ের অবস্থান বান্দরবানের চিম্বুক রেঞ্জে। কির্সতং নামটি এসেছে মূলত ‘কিরসা’ ও ‘তং’ শব্দ থেকে। ‘কিরসা’ হচ্ছে এক ধরনের ছোট পাখি। মারমা ভাষায় ‘তং’ অর্থ পাহাড়। কির্সতং পাহাড়ে ছোট ছোট পাখি উড়ে বেড়ায়। এই ছোট পাখি উড়ে বেড়ানো পাহাড়ের উচ্চতা দুই হাজার ৯৫০ মিটার।
এই পাহাড়টি ঘিরে রয়েছে একটি বন। এই বনে বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় পশুপাখি ও প্রাণী বসবাস করে। কির্সতং সামিট থেকে তিন্দুর পরিস্কার ভিউ পাওয়া যায়। সামিটের চারপাশে ঘন গাছপালার কারণে খুব ভালো ওয়াইড ভিউ পাওয়া যায় না।
মায়াবী সেই কির্সতং জঙ্গলের বেশিরভাগ জায়গাতেই সূর্যের আলো পৌঁছায় না। বিশাল গাছের ছাউনি দিয়ে ঘেরা বনটি এখনও বেশ বুনো রয়েছে। বনের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বেশকিছু পাখির ডাক শোনা যায়, যেগুলো এখন বিলুপ্তপ্রায়।
বনের গাছগুলো দেখেই বোঝা যায়, এটি হাজার বছরের পুরোনো। আপনি যখন সেই হাজার বছরের পুরোনো জঙ্গলের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাবেন, তখন অন্য রকম এক অনুভূতি হবে মনের মধ্যে। কিছুক্ষণ পরপর থেমে পায়ে, শরীরে লেগে থাকা জোঁক হয়তো হাত দিয়ে টেনে টেনে ছাড়াতে হবে। আর যদি শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি, তাহলে পুরো পরিবেশটাই বদলে যাবে। সাধারণ একটা পাহাড়ি জঙ্গল নিমেষেই হয়ে যাবে মায়াময়, অসম্ভব সুন্দর স্বর্গের টুকরো। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি হয়ে যেতে পারে ভয়ানক পিচ্ছিল। পা ফেলতে হবে সাবধানে। মাঝেমধ্যে এমন সব খাড়া অংশ পড়বে, তা পাড়ি দিতে হলে সতর্ক হতে হবে। একটু এদিক-ওদিকে পা দিলেই সোজা পাহাড়ের নিচে। যদি পথেই এত মায়া রেখে থাকে কির্সতং, তাহলে ওপরে কী মায়া আর সৌন্দর্যটাই না জমিয়ে রেখেছে!
পুরো ট্র্যাকেই রয়েছে অনেক আদিবাসী পল্লি। তাদের বাড়িতে ম্যানেজ করে থাকা যাবে। আলীকদম এরিয়ার আদিবাসীরা এখনও শহুরে কাউকে পেলে অতিথির চোখে দেখে। পাহাড়ি রান্না খেতে সমস্যা হলে তাদের কাছ থেকে চাল ও তরকারি কিনে নিজেরাই রান্না করে খেতে পারবেন। নিজেরা রান্না করে খেতে চাইলে তেল-মসলা ও প্রয়োজনীয় জিনিস আলীকদম বাজার থেকেই কিনে নিয়ে যেতে হবে। পাহাড়ে কোনো দোকান নেই। রাতে আদিবাসী পল্লিতেই থাকা যাবে। এর জন্য পাড়ার কারবারির সঙ্গে প্রথমেই কথা বলে নিতে হবে। সাধারণত প্রতিটি পাড়ার কারবারির বাড়িতেই অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা হয়।