শীতে গাছে ঝুলছে আমের মুকুল, ছড়াচ্ছে সুবাস

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual7 Ad Code

নাছির উদ্দিন, মীরসরাই ঃ
আমাদের জাতীয় গাছ আমগাছ। মধূমাসে মধূর অন্যতম ফল আম। যা মৌসুমে ছোট-বড় সকলের দৈনন্দিন খাবারের পছন্দের তালিকায় থাকে। পাকা আম খাওয়ার পাশাপাশি কাঁচা আমের ভর্তা, ছাটনি অনেকের প্রিয় খাদ্য। তাইতো পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের লেখা “মামার বাড়ি” কবিতার ছন্দে তিনি লিখেছেন, ‘আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই, ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ে যাই। ঝড়ের দিনে মামার দেশে, আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের শাখায় উঠি রঙিন করি মুখ…।’
সেই কবিতার পংক্তিগুলো বাস্তব রূপ পেতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েক মাস। তবে বাতাসে এখনি সুবাস ছড়াচ্ছে গাছে গাছে থোকায় থোকায় ফুটে থাকা আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। সবুজ পাতার বেষ্টনিতে হলুদ মুকুলে রুপ বদলেছে আমগাছ গুলোর। অনায়াসে অনেকের দৃষ্টি কাটছে সেই আমের মুকুল।
বাতাসে মিশে সর্বত্র ছড়াচ্ছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মানুষের মনকে বিমোহিত করে তুলছে। পাশাপাশি শীত ঋতুর শেষদিক এখন। এর পরেই আসছে বসন্ত ঋতু আর বসন্ততেই হবে মধুমাস। এখন সেই মধু মাসের আগমনী বার্তা শোনাচ্ছে আমের মুকুল।
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপেজলার বিভিন্ন গ্রামে সর্বত্র ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি আম গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। তবে আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলো। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে স্বপ্ন। গ্রামীণ পবিরেশে বেড়ে উঠা বিভিন্নস্থানে থাকা নানা প্রজাতীর আমগাছ সাথে বর্তমানে যুক্ত হচ্ছে আম্রুপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষিরসাপা অন্যতম। এগুলো স্থানীয় লোকজন বিভিন্নস্থানে জমি ভরাটকরে বাগান তৈরী করে এসব গাছ লাগিয়ে চাহিদামত আমের ফলন করছেন। ইতিমধ্যে এসব গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। গাছের পুরো মুকুল ফুটতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে জানান বাগান মালিকরা।
মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জের স্থানীয় এক বাগান মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, একমাস আগে থেকে তার বাগানে লাগানো আম গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। আবার কিছু গাছে গাছে মুকুল বের হচ্ছে। তিনি আরো জানান, মুকুল আসার পর থেকেই তারা গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুল রোগ বালাইয়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঔষধ স্প্রে করছেন তিনি। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘু নাথ নাহা বলেন, “মীরসরাইয়ে স্থানীয় আমের গাছ ছাড়াও বাগান আছে প্রায় ৯৫ হেক্টর জমিতে। এরমধ্য প্রায় ৩০ হাজার গাছ আছে। স্থানীয় আম বাগানীরা যেকোন পরামর্শের জন্য আসলে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় পারামর্শ প্রদান করছি।”
আম গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গাছে এখন আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মূলত আবহাওয়াগত কারণে দেশীয় জাতের গাছে এই আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। এ সময় বাগানে বসবাস করা হপার বা ফুদকী পোকা যারা মুকুলের ক্ষতি করে। এ পোকা দমনে বালইনাশক স্প্রে করতে হবে। তবে এখন যেহেতু কুয়াশা বেশি পড়ছে তাই এখন স্প্রে করে খুব ভালো ফল পাবেন না চাষীরা। কারণ ঠান্ডার কারণে এমনিতেই হপার পোকা গাছের বাকলে লুকিয়ে থাকবে। তবে আরও কিছুদিন পরে দিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। সেই সঙ্গে নিয়ে সালফার জাতীয় ছত্রাক নাসক স্প্রে করাও যাবে বলে জানা যায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code